হালখাতায়ও আসেনি, বকেয়া ৪০-৪২ লাখ টাকা আদায়ে ব্যবসায়ীর মাইকিং

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পিরোজপুর
প্রকাশিত: ০৪:২৯ পিএম, ১৫ মে ২০২৬
পাওনা টাকা আদায়ে মাইকিং করছেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বাদশা

পিরোজপুরের পাড়েরহাট এলাকায় দীর্ঘদিনের বকেয়া টাকা পড়ে থাকায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বাদশা। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০-৪২ লাখ টাকা। পাওয়া টাকা আদায়ে হালখাতার আয়োজনও করেছেন তিনি। কিন্তু আশানুরূপ সাড়া পাননি। শেষ পর্যন্ত মাইকিং করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে মাইক ভাড়া করে পাওনাদারদের উদ্দেশে তাকে টাকা পরিশোধের আহ্বান করতে দেখা যায়। মাইকিং চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের ‌‘মেসার্স আদিল আহনাফ এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘মেসার্স হাওলাদার ব্যাটারী’ নামের দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

পাওনা টাকা আদায়ে মাইকিং করছেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বাদশা

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ শংকরপাশা গাজী বাড়ির বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বাদশা। তিনি ২০১৯ সাল থেকে মুদি মালামাল, ইজিবাইক, ব্যাটারি ও বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যবসা করে আসছেন। দীর্ঘ সাত বছরে বাকিতে পণ্য বিক্রির কারণে বর্তমানে তার ৪০-৪২ লক্ষ টাকা বকেয়া পড়ে গেছে।

অতিরিক্ত বাকি লেনদেনের কারণে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। বকেয়া টাকা আদায়ে বৃহস্পতিবার তার দোকানে হালখাতার আয়োজন করা হয়। তবে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় সকাল থেকে তিনি মাইক ভাড়া করে পাওনাদারদের উদ্দেশে টাকা পরিশোধের আহ্বান জানান।

পাওনা টাকা আদায়ে মাইকিং করছেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বাদশা

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, ‘আমি ২০১৯ সাল থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমি মানুষের সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি, যাতে আমারও ব্যবসা হয় এবং অন্য মানুষের উপকার হয়। এভাবেই আমি অনেক মানুষকে ব্যাটারি বাকিতে দিয়েছি, কিস্তিতে দিয়েছি। যখন যে আমার কাছে এসেছে, আমি তাকে সহযোগিতা করেছি। এমনও হয়েছে সকালে মাল নিছে বিকেলে দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু বিকেল তো বিকেল, ছয় মাসেও কোনো খোঁজ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাত বছরের মধ্যে আগেও একবার হালখাতা করেছি। টাকা না পেয়ে আবারও হালখাতা করেছি। যাদের কাছে টাকা পাই, মাইক ভাড়া করে তাদের নাম ধরে ডাকছি। এরপরও যদি আমার টাকা পরিশোধ না করে, তাহলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাইকিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

পাওনা টাকা আদায়ে মাইকিং করছেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বাদশা

স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ শেখ বলেন, ‘মানুষের কাছে ৪০-৪২ লাখ টাকা পাবে কিন্তু তারা টাকা দিচ্ছে না, এমনকি দোকানের কাছেও আসে না। তাদেরকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলা হয়েছে। এমনকি হালখাতার কার্ড দেওয়া হয়েছে। আমার কাছেও এক লাখ টাকা পাইতেন, আমি পরিশোধ করেছি। তিনি আমার যে উপকার করেছেন তা আমার বাবাও করেনি। আমার মতো যদি সবাই টাকা পরিশোধ করতো, তাহলে এই মানুষটির কোনো কষ্ট থাকতো না।’

মো. তরিকুল ইসলাম/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।