যমুনার চরে সূর্য উঠলেও ফোটে না শিক্ষার আলো

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ১৩ মে ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনার চরে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, শিক্ষকও আছেন, কিন্তু নেই পাঠদান। অবহেলায় ভেঙে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। যমুনার বুকে ভাসমান এই চরগুলোতে প্রতিদিন সূর্য ওঠে, কিন্তু ফোটে না শিক্ষার আলো।

উপজেলার সাপধরী ও বেলগাছা ইউনিয়নের যমুনার বুকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো যেন তৈরি করা হয়েছে শিক্ষকদের বেতন আর ভাতা নেওয়ার জন্যই। দিঘাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা আরও নাজুক। স্থানীয়দের বিস্তর অভিযোগ প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তার নিজের তৈরি নিয়মেই চলে বিদ্যালয়। নৈশপ্রহরী লিটনকে দিয়ে চালান পাঠদান।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বারান্দায় স্থানীয়রা গৃহস্থালির কাজ করছেন, কেউ পেঁয়াজ রাখছেন শ্রেণিকক্ষে। একটি শ্রেণিকক্ষে ৩ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পাঠদান করার চেষ্টা করছেন লিটন।

সাপধরী মন্ডল পাড়া এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। মাঝে মধ্যে প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান আসেন, কিছুক্ষণ বসে থেকে চলে যান।

নৈশ্যপ্রহরীর পাঠদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নৈশপ্রহরী ক্লাস নিলে কি জাইত চলে যাবে, ক্লাস নিছে তো কী সমস্যা?

দিঘাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান বলেন, সেটা আমার বিষয় কাকে দিয়ে ক্লাস নিবো। আপনারা বলার কে?

যমুনার চরে সূর্য উঠলেও ফোটে না শিক্ষার আলো

নৈশপ্রহরী লিটন বলেন, হেডস্যারের অনুমতিতেই আমি ক্লাস নিই।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ নুরুজ্জামানের খাম খেয়ালিতেই বিদ্যালয়টির ভঙ্গুর দশা। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

এদিকে চরবরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে নীরবে নিস্তব্ধে। উপস্থিত নেই কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী। মাসের পর মাস বছরের পর বছর এভাবেই চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।

চরবরুল এলাকার অভিভাবকদের অভিযোগ, এই বিদ্যালয়ে শুধু পতাকা ওড়ে। শিক্ষকরা মাঝে মাঝে আসেন, কিছুক্ষণ বসে থেকে নৌকাযোগে চলে যায়। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের সন্তানদের নুরানি মাদরাসায় পড়তে দিয়েছি।

চর মন্নিয়া এলাকার এক অভিভাবক মো. বক্কর মন্ডল বলেন, শিক্ষকদের অবহেলা আর তদারকির অভাবে যমুনার এই চরে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে এই শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারেই রয়ে যাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা বেগম বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।