চার বন্ধুর বাজিমাত

৫টি দিয়ে খামার শুরু, কোরবানিতে ৪০০ গরু বিক্রির আশা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ১৫ মে ২০২৬
পাবনার ‘জনতা ডেইরী এন্ড এগ্রো ফার্ম’-এর গরু। খামারটি দিয়েছেন চার বন্ধু/ছবি-জাগো নিউজ

২০১৯ সালে করোনা মহামারিতে চাকরি হারিয়ে বেকায়দায় পড়েন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শাহিদুল ইসলাম শাকিল। সেসময় তেমন ব্যবসার সুযোগও ছিল না। ফলে দিশাহারা হয়ে পড়েন তিনি। পরে গরুর খামার করার কথা ভাবেন। যেই চিন্তা সেই কাজ। এই একটিমাত্র সিদ্ধান্তে তার জীবনে রচিত হয়েছে নতুন এক সফলতার গল্প।

শাকিলের এ সফলতার গল্পের মাঝে যুক্ত হন আরও তিন বন্ধু। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র পাঁচটি গরু দিয়ে শুরু করা তাদের খামারে এখন সবসময় থাকছে প্রায় দেড়শ গরু। খামারের নাম দিয়েছেন ‘জনতা ডেইরী এন্ড এগ্রো ফার্ম’। গাভির পাশপাশি ঈদুল আজহা ঘিরে কমপক্ষে ৪০০ কোরবানিযোগ্য পশু বিক্রির আশা তাদের।

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চৌবাড়িয়া এলাকার হারোপাড়া মহল্লায় ২০ শতাংশ জায়গার ওপর শাকিল, ফারুক, রাজু ও হালিম নামের চার বন্ধু মিলে গড়ে তুলেছেন ‘জনতা ডেইরী এন্ড এগ্রো ফার্ম’। এর বাইরে আরও ২০ শতকে খামারের আরও তিনটি শেড করা হয়েছে। এ ফার্মে সারাবছর উন্নত জাতের গাভি ও বাছুর পালনের পাশাপাশি বেচাকেনা করা হয়।

৫টি দিয়ে খামার শুরু, কোরবানিতে ৪০০ গরু বিক্রির আশা

প্রতিবছরের মতো কোরবানিকে সামনে রেখে বর্তমানে ২০ শতকের এ শেডে সারিতে সারিতে বেঁধে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সাইজের শতাধিক দেশি ও শাহিওয়াল জাতের ষাঁড়। ক্রেতারা আসছেন এবং দেখেশুনে লাইভওয়েটে পছন্দসই ষাঁড় কিনছেন।

নিজেদের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি অন্তত ১৫ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এ খামারে। খামার ঘুরে দেখতে দেখতে কথা হয় অন্যতম উদ্যোক্তা ও পরিচালক শাহিদুল ইসলাম শাকিলের সঙ্গে। তার কাছ থেকে জানা গেলো এ খামারের আদ্যোপান্ত।

২০১৯ সালে সারা বিশ্বেই করোনার ভয়াল থাবা নেমে আসে। এসময় বিএসএস সম্পন্ন করা যুবক শাকিল চাকরি হারান। কর্ম হারিয়ে একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে ঢাকা থেকে ভাঙ্গুড়ার নিজ এলাকায় ফেরেন তিনি। এরপর জীবিকা নির্বাহে দিশাহারা শাকিল কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। এরমধ্যে এক মামার সঙ্গে ব্যবসায় নামার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাতেও সফলতা ধরা দেয়নি। পরে আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে পাঁচটি গরু দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এবার গড়ে তোলেন সমন্বিত খামার।

শাকিল জানান, শুরুটা একদম সহজ ছিল না। গাভি ও ষাঁড় পালন দিয়ে শুরুর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ভালো জাত ও মানের গাভি বাছাই করা এখানে বড় ফ্যাক্টর।

৫টি দিয়ে খামার শুরু, কোরবানিতে ৪০০ গরু বিক্রির আশা

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘পাঁচটি গরু ও সাধারণ শেড নির্মাণসহ আমাদের শুরুটা ছিল ১০-১২ লাখ টাকা দিয়ে। কিন্তু এখন এটি প্রায় দেড়কোটি টাকার ফার্মে উন্নীত হয়েছে। এখন শুধু প্রতিমাসে স্টাফদের বেতন বাবদ তিন ও গরুর খাবার বাবদ তিন লাখ টাকার ওপরে ব্যয় হয়।’

ঈদুল আজহা বাদে প্রতিমাসে ১২০টির মতো গাভি ও বাছুর বিক্রি হয়। ব্যয় বাদে প্রতিবছর অর্ধকোটি টাকার মতো লাভ আসে। আসন্ন
ঈদে ৩-৮ মণ ওজনের ৪০০টিরও বেশি ষাঁড় বিক্রির আশা করা হচ্ছে।

খামারের আরেক স্বত্বাধিকারী রাজু বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। তাতে গরুগুলোর ভিডিও দেওয়া হয়। ক্রেতারা দেখে গরু নিতে আসেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের জন্য আমরা বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রেখেছি।’

৫টি দিয়ে খামার শুরু, কোরবানিতে ৪০০ গরু বিক্রির আশা

গরু কিনতে আসা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. হারেস বলেন, ‘কোরবানির বাজারের জন্য খামার থেকে দেশি জাতের ২১টি ষাঁড় কিনেছি। এখানকার গরুগুলো বেশ মানানসই।’

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘গরু মোটাতাজাকরণ মূলত চারমাস মেয়াদি হওয়া উচিত। এটিই সায়েন্টিফিক প্রসেস। ওই চার যুবক এই সায়েন্টিফিক প্রসেসটাই নিয়েছেন। ফলে তারা দ্রুত সফলতা পেয়েছেন। এভাবে সঠিক প্রসেস মেনে খামার করার ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ দপ্তর খামারিদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।’

আলমগীর হোসাইন নাবিল/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।