লালমনিরহাটের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি
গত কয়েক দিন ধরে ভারি বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৪০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দেশের বৃহত্তর সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সোমবার সন্ধ্যায় দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় তিস্তার ভাটিতে থাকা নদী-তীরবর্তী অঞ্চলগুলো বন্যার পানি সরতে শুরু করেছে।
এদিকে গত তিনদিনের অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার ভাটিতে থাকা ৪০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ তিনদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পানিবন্দি এলাকাগুলো হচ্ছে- হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, ঠাংঝাড়া, পাসশেখ সুন্দর, নিজ শেখ সুন্দর, গড্ডিমারী, চর গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, ধুবনী, চর সিন্দুনা, হলদীবাড়ী, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী, বিদন দই, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডার, চর বৈরাতী, শৈইলমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ ও গোকুন্ডা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অনেকেই ঘরের ভিতর মাচা বানিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকেই আবার ঘরবাড়ি ভেঙে গাইড বানে আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দি এসব মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোমবার বিকেল ৫টায় তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ সেন্টিমিটার নিচে। তিস্তা ব্যারাজের এ পয়েন্টে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ধরা হয় ৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার।
গোবর্দ্ধন গ্রামের সাদেকুলের স্ত্রী পন্নি বেগম একমাত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে মাচাংয়ের উপর চুলা বসিয়ে পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করছেন। তিনি বলেন, ‘নিজে না খাইলেও চলে কিন্তু ছাওয়াটার কান্দোন (বাচ্চার কান্না) আর সহিবার পাং না ভাই। সেই জন্যে এক মুট চাউল আছিল। তাকে চড়ে দিনিং ( রান্না উঠানো) ছাওয়াটার জন্যে।’
হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের পার শেখ সুন্দর গ্রামের ইউপি সদস্য ফজলুল হক জাগো নিউজকে বলেন, এই এলাকায় প্রায় ৫০০ পরিবার ১০ দিন ধরে পানিবন্দি। অনেকে টিনের চালা পেতে গাইডবানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাছেন।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তিনি বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। ইতোপূর্বের বন্যায় ত্রাণ দেয়া হয়েছে। আরো ত্রাণের জন্য উচ্চপর্যায়ে অবগত করা হয়েছে।
রবিউল হাসান/এআরএ/এবিএস