উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ : প্রধান শিক্ষিকা অবরুদ্ধ
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করায় প্রধান শিক্ষিকাকে অবরুদ্ধ করেছেন অভিভাবকরা।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার উত্তর বারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা খালেদা বেগমকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে কয়েকজন শিক্ষক নেতা ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিভাবকদের দাবি করা বকেয়া টাকা ফেরৎ দিয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে মুক্ত করে নিয়ে যান। এ সময় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষিকার অপসারণ দাবি করেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির তামান্না আক্তারের নামে আসে ৯০০ টাকা কিন্তু তাকে দেয়া হয়েছে ৩০০ টাকা। প্রথম শ্রেণির ইয়াতিম ছাত্র আব্দুল্লাহ পেয়েছে ৩০০ টাকা অথচ স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে ৯০০ টাকার বিপরীতে। এছাড়াও তৃতীয় শ্রেণির সাদিয়া আক্তারকে দেয়া হয়েছে ৬০০ টাকা। তার নামে বরাদ্দ রয়েছে এক হাজার ২০০ টাকা। চতুর্থ শ্রেণির হাফিজুর মীরের নামে এক হাজার ২০০ টাকা বরাদ্ধ থাকলেও তাকে ৬০০ টাকা দেয়া হয়েছে।
তারা আরো অভিযোগ করেন, চতুর্থ শ্রেণির চাদনী ও তার ভাই রাব্বির নামে দুই হাজার ৪০০ টাকা মাস্টার রোলে পরিশোধ দেখানো হলেও তাদেরকে দেয়া হয়েছে এক হাজার ৮০০ টাকা।
এ বিষয়ে চতুর্থ শ্রেণির সিফাত উল্লাহর বাবা চাঁন মিয়া বলেন, তার ছেলের নামে এক হাজার ২০০ মাস্টার রোলে পরিশোধ দেখিয়ে দিয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা।
এছাড়া তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সজীবের মা মনিরা বেগম বলেন, তার ছেলের নামে মাস্টার রোলে এক হাজার ২০০ টাকা পরিশোধ দেখিয়ে মাত্র ৬০০ টাকা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খুব দ্রুতই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আনিসুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাওনা যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেয়া হবে। যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা খালেদা বেগম বলেন, টাকা বিতরণ এখনো চলছে। অনেকে কিছু টাকা কম পেয়েছে তা পরিশোধ করা হচ্ছে।
শওকত আলী বাবু/এএম/এবিএস