তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে সতর্কতা জারি


প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ২৪ জুলাই ২০১৬

উজান স্রোতে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রোববার রাতে সর্তকতা জারি করে এলাকায় মাইকিং করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। একই সঙ্গে তিস্তার ফ্লাড বাইপাসসহ নিম্নাঞ্চলের জনগণকে রাতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ারও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টায় তিস্তার উজানে ভারতের গোজলডোবা ব্যারেজের পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মর্মে ডালিয়া বন্যা ও পূর্বাভাস কেন্দ্রকে অয়ালেন্স সেটে অবগত করা হয়।

ভারতের গোজলডোবার দৌমনী পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমা ৮৫ দশমিক ৯৫ মিটার হলেও সেখানে পানি প্রবাহ রয়েছে ৮৬ দশমিক ২৩ মিটার। যা সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে প্রবেশ করতে শুরু করে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, বোরবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ১৫ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও দুপুর ৩টা তা বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হয়। বিকেল থেকে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বিকেল ৬টায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার, ৭টায় ১৫ সেন্টিমিটার ও রাত ৯টায় তা বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র মতে ধারণা করা হচ্ছে, উজানের ভারি বৃষ্টিপাত ও গজলডোবার জলকপাট খুলে দেয়ায় তিস্তার প্রবাহ দূর্বার গতিতে বাংলাদেশে ধেয়ে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। কি পরিমাণ উজানের ঢল আসছে তা মনিটরিং করছে পাউবো কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ ও ফ্লাড ফিউজ এলাকায় নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

ভারতের জলপাইগুড়ি, কুচবিহার এলাকার বাংলাদেশ অংশে প্রবেশদ্বার মেখলিগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তা অববাহিকায় রেড এ্যালার্ট জারি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তিস্তার পানি রাত ৯টায় বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলসহ ও নিচু এলাকার লোকজনকে নিবাপদে সরিয়ে আনার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানসহ সকলকে নিদের্শ প্রদান করা হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফিজার রহমান জাগো নিউজকে বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রাতে পানি বৃদ্ধি পেলে চরাঞ্চলসহ নিচু অঞ্চলের লোকজনের ক্ষতির আশঙ্খার সতর্কতা জারি করে মাইকিং করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিকেল ৬টায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে তিস্তার পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। ১ ঘণ্টা পর তা বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রাত ৯টায় আবারো বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগাম সতর্কতা জারি করে মাইকিং করা হয়েছে।

খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার বলেন, পাউবো এলাকায় মাইকিং করে নিচু অঞ্চলসহ ফ্লাড বাইপাশ এলাকার লোকজনকে নিরাপদ দুরত্বে থাকার জন্য বলেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে নিচে অঞ্চলের লোকজনকে সরিয়ে আনা হচ্ছে।

সরকারিভাবে যে পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে বাধে আশ্রিত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হলেও বন্যায় আটকে পড়াদের মাঝে তা বিতরণ করা হচ্ছে না।

তিস্তার বন্যা ও ভাঙনের কারণে আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই হাজার ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫০০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। এর মধ্যে চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও টাবুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে অধিকাংশ ক্লাস রুমে ভাঙনের কবলে পড়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ বলেন, ইতিমধ্যে সরকারিভাবে ৯০ মেট্রিক টন চাল, নগদ তিন লাখ ৫৫ হাজার টাকা, শুকনা খাবার জেলা প্রশাসক বরাদ্দ দিয়েছে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেনর বলেন, তিস্তার বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকারিভাবে সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারি ভাবে ত্রাণে কোনো ঘাটতি নেই সকল বিষয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে।

জাহেদুল ইসলাম/এআরএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।