বাণিজ্যিকভাবে আমড়া চাষ করে লাভবান চাষিরা


প্রকাশিত: ০৭:২১ এএম, ২৫ জুলাই ২০১৬

উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরে এবার মৌসুমি ফল আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু হিমাগারের অভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না এগুলো। ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা। এছাড়া সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ না নেওয়ায় বাগানেই লক্ষ লক্ষ টাকার আমড়া পচে নষ্ট হচ্ছে।

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে আমড়া একটি অতি পুষ্টিকর মৌসুমি ফল। আমড়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ইত্যাদি অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। খাদ্যপোযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম আমড়ায় রয়েছে ১.১ গ্রাম প্রোটিন, ১৫ গ্রাম শ্বেতসার, ০.১ গ্রাম স্নেহ, ০.২৮ মি. গ্রাম. ভিটামিন এ, ০.০৪ মি. গ্রাম ভিটামিন বি, ৯২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ৫৫ মি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ৩.৯ মি. গ্রাম লৌহ এবং ৮০০ মাইক্রোগ্রম ক্যারোটিন রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি আমড়ায় ৬৬ কি. গ্রাম খাদ্য শক্তি রয়েছে।

piroj-pic-amra

এ ফল একদিকে যেমন ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করছে, অন্যদিকে এর বাম্পার ফলনে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। চাষিদের দাবি সরকারি পর্যায়ে একটি হিমাগার স্থাপন করলে আমড়ার ন্যায্যমূল্য অর্জন নিশ্চিত করা যেত।
 
জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে নাজিরপুর, কাউখালী এবং নেছারাবাদে (স্বরুপকাঠি) বাণিজ্যিকভাবে আমড়ার বাগান করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বাগান মালিকরা। অন্যান্য উপজেলায় মাটি কেটে চারা রোপনের উপযোগী করা হচ্ছে। পতিত জায়গা সরকারি খাস জমি লিজ নিয়ে, সড়ক ও জনপথের দু’ধারে এবং বসতবাড়িতে নিজস্ব উদ্যোগে ব্যবসায়ীক ভিত্তিতে ব্যাপক হারে আমড়ার চাষের প্রচলন করা হচ্ছে।

আমড়ার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কাউখালী এবং স্বরুপকাঠীতে গড়ে উঠেছে শতাধিক আমড়ার আড়ৎ। আমড়া বেপারীরা শ্রাবণ এবং ভাদ্র মাসে বাগানে গিয়ে বাগান মালিকদের কাছ থেকে ৭৫০ থেকে ৮০০টি আমড়া ভর্তি বস্তা গড়ে ৮০০ টাকায় ক্রয় করেন। এই আমড়া কাউখালী ও স্বরুপকাঠি আড়তে এনে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন। সেখান থেকে আমড়া পাঠানো হয় চাঁদপুর ও ঢাকায়। সেখানে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকায় প্রতি বস্তা আমড়া বিক্রি হয় বলে জানান আমড়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা।

piroj-pic-amra

কাউখালী উপজেলার সাহাপুরা গ্রামের আমড়া ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এ এলাকা থেকে বছরের চার মাস অর্থাৎ আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটি টাকার আমড়া চালান দেয়া হয়।

ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, নারায়নগঞ্জ, যশোর, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, নোয়াখালী ছাড়াও এখন দেশের বাইরে ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়াসহ বহু দেশে এ এলাকার আমড়ার বেশ চাহিদা রয়েছে বলেও জানান আমড়া চাষিরা।

পিরোজপুরের মাটি আমড়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী বলে জানালেন কৃষি কর্মকর্তারা। তবে এই গাছ দ্রুত বর্ধনশীল এবং নরম বলে কালবৈশাখী, টর্নেডো, সাইক্লোনসহ একটু জোরে বাতাসেই ভেঙে বা উপড়ে যায়। এছাড়া নিন্নচাপের কারণে অতি বর্ষণে পিরোজপুর জেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে চার-পাঁচ দিন আমড়া গাছের নিচে পানি জমে থাকলে শিকার পচে গাছ মরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬০০ হেক্টর বাগানে এই মৌসুমে আমড়ার ফলন হয়েছে ৫ হাজার টন। এই আমড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাগান মালিকরা প্রায় ১০ কোটি টাকা আয় করবেন।

piroj-pic-amra

জেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুন রায় জানিয়েছেন, লাভজনক এ মৌসুমি ফল আমড়া গাছে রোগ বালাই খুবই কম। কিছু কিছু গাছে বৈশাখের শুরুতে নতুন গজানো পাতায় লেদা পোঁকার আক্রমন হয়। কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা ঘুরে ঘুরে বাগানে গিয়ে চাষিদেরর বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ছিটানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

কাউখালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আলী আজম জানান, আমড়া একটি দ্রুত বর্ধনশীল গাছ হওয়ায় এটি অল্প সময়ের মধ্যেই বড় হয় এবং ফল ধরে। পরিকল্পিতভাবে আমড়া চাষ করে প্রচুর অর্থ লাভ করা সম্ভব।

পিরোজপুর সদর উপজেলা, নাজিরপুর, কাউখালী ও নেছারাবাদের মাটি আমড়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী হওয়ায় এই এলাকায় আমড়ার ফলন খুবই ভাল হয় বলে জানিয়েছেন এখানকার কৃষি কর্মকর্তারা।

হাসান মামুন/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।