ঝালকাঠিতে দুই ইউপি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন


প্রকাশিত: ১২:৫৯ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৬

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নের সংযোগ পূর্ব আশিয়ার গ্রামের সেতুটি প্রায় দুই বছর আগে হঠাৎ ভেঙ্গে যায়। ফলে দুই ইউনিয়নের চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ে। দুেই বছর পার হলেও এখনও সেতুটি নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

জানা যায়, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীরা। সেতুর অভাবে হেঁটে পাড়ি দিতে হচ্ছে কয়েক মাইল পথ।

বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

জানা যায়, যানবাহনের অভাবে এ এলাকার অসুস্থ রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেয়া যাচ্ছে না। ফলে সময়মতো চিকিৎসার অভাবে অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে এলজিইডির আওতায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই আয়রন সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের সময় নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় অবকাঠামোগতভাবে নড়বড়ে ছিল সেতুটি। খুঁটির অ্যাঙ্গেল চুরি হয়ে যাওয়ায় দুই বছর আগে সেতুটি ভেঙ্গে খালে পড়ে যায়।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের আশিয়ার ও মুড়াশাতা এবং গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কালিয়ারগোক ও বালিঘোনা গ্রামের মানুষ সড়ক পথে চলাচল করতে পারছে না। সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। যে কারণে সমস্যায় পড়ে অনেকেই লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছে।

মুড়াশাতা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, সেতুটা ভালো থাকলে অনেক কম সময়ে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে পারতাম। কিন্তু এখন তা পারছি না। সময়ের কাজ সময়মতো না করতে পারলে কি লাভ।

বালিঘোনা গ্রামের কলেজছাত্র রবিউল ইসলাম বলেন, অনেক দূরের পথ। হেঁটে প্রতিদিন কলেজে যেতে হচ্ছে। সময়মতো কোনো ক্লাস করতে পারছি না। আমরা দ্রুত এই সেতুটি নির্মাণের দাবি করছি।

বিনয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি নির্মাণের ব্যাপারে আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ উদদৌলা বলেন, ওই সেতু নির্মাণে এখনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্টিমেট করে পাঠাবো। আশা করি পরবর্তী প্রকল্পে সেতুটি অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

মো. আতিকুর রহমান/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।