তিস্তা পাড়ে বানভাসি মানুষের কান্নার রোল


প্রকাশিত: ০৬:২৫ এএম, ২৬ জুলাই ২০১৬

উজান থেকে ভেসে আসা বানভাসি মানুষের কান্না আর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে তিস্তা পাড়। ঘর-বাড়ি হারিয়ে পরিবার নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে তারা।

মঙ্গলবার সকালে তিস্তার পানি প্রবাহ বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজের ৪৪টি গেটই খুলে দিয়ে পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে পানি কমতে শুরু করেছে বলে পাউবো সূত্র জানায়।

লালমনিহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বাঘের চর গ্রামের ঘর-বাড়ি হারিয়ে হালিমা খাতুন (৩৫) তার শিশু সন্তান মিতুকে (৭)  নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে তিস্তা নদীর দিকে চেয়ে বিলাপ করছেন, সবেই কাইরা নিলি এহন (এখন) কই থাকুম, তোর কি মায়া দয়া নেই?

Tista-Banvasi

গত কয়েক বছরের চেয়ে এবার স্মরণকালের ভয়াবহ তিস্তা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। গৃহহারা হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পাউবো গাইডবাঁধ, হ্যালি প্যাডে। কেউবা সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে কুঁড়ে ঘর করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভারতের উজানের ঢলে ও এক সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টির ফলে তিস্তা নদী ফুঁসে উঠেছে।

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, ঠাংঝাড়া, পাসশেখ সুন্দর, নিজ শেখ সুন্দর, গড্ডিমারী, চর গড্ডিমারী, নিজ গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, ধুবনী, চর সিন্দুনা, হলদীবাড়ী, পাটিকাপাড়াও ডাউয়াবাড়ী, বিছন দই, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ও নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার চর খড়িবাড়ী, টাপুর চর,পূর্ব খড়িবাড়ী এলাকার প্রায় ১০ হাজার পরিবার গৃহহারা হয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। লালমনিহাটে ৫ উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার।

Tista-Banvasi

লালমনিরহাট জেলা সদরের কুলাঘাটের ধরলার নদীর ওয়াপদার বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার।

বন্যার্ত পরিবারগুলো ত্রাণের জন্য হাহাকার করছেন। পানিবন্দী ও ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো ৩ দিন পর মাত্র ১০ থেকে ২০ কেজি চাল পেয়েছে।

Tista-Banvasi

ডিমলা উপজেলার টাপুর চরে গৃহহারা জহুরা বেগম (৪০) জানান, পানি জায়গা জমি সব কিছু গেছে। এখন খালি হাত পা ছাড়া কিছুই নাই। পরনের কাপড়সহ সব ভাইসা গেছে। এখন কি যে খামু?

Tista-Banvasi

হাতীবান্ধা উপজেলার চর নিজ শেখ সুন্দর গ্রামের মোনাফ আলী জানান, সোমবার ঘরবাড়ি সব ভেঙে গেছে। এখন এই বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছি। কোনো সরকারি সাহায্য পাইনি। শুধু শুকনো চিড়া আর গুড় পেয়েছি।

এইচ আর ইকুপমেন্ট ইনঞ্জিনিয়ারিং এর পরিচালক ও হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল হালিম নিজ উদ্যাগে ৩০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার চিড়া ও গুড় বিতরণ করেন।

Tista-Banvasi

এদিকে, বানভাসি মানুষের জন্য কোনো মেডিকেল টিম কাজ না করায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইতোমধ্যে ৩০০ মে.টন চাল, ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ ৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরো ৩০০ মে.টন চাল ও ৮ লাখ টাকা বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

রবিউল হাসান/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।