টাকার নেশায় যুবকরা ছুটছেন সীমান্তে গরু আনতে
সীমান্তের ওপারে বিএসএফের তাক করা বন্দুক। বাংলাদেশি দেখা মাত্রই চালাচ্ছে গুলি। তবুও এদেশের যুবকরা ছুটছে সীমান্তে, আনছে গরু। কারণ একটিই। টাকা। শুধু কাঁচা টাকার নেশায় তারা জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করছে। সীমান্ত এলাকায় যুবকদের কাছে এর চেয়ে লাভজনক পেশা আর একটিও নেই।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ থেকে ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত ১৮ মাসে যশোরের বেনাপোল ও শার্শা সীমান্তে বিএসএফের হাতে ৯ জন বাংলাদেশি নিহত ও ১৩ জন নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতাল ও বাড়িতে শয্যাশায়ী রয়েছেন। বিএসএফ অপহরণ করে নিয়ে গেছে এমন ব্যক্তির সংখ্যা আরো কয়েকজন। এরপরও থেমে নেই চোরাচালান।
গরু রাখার খাটাল ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক বছর ধরে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ রয়েছে। ২/৪টি চোরাই পথে আসছে। ভারত সরকার সীমান্তে গরু পাচার বন্ধে কঠোর মনোভাব নেওয়ায় এখন গরু আসছে না। ২০১৫ সালে গরু আনতে গিয়ে ৮ জন নিহত হয়। কিন্তু ২০১৬ সালে মাত্র একজন গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। লাখ লাখ টাকা দিয়ে সরকারের কাছ থেকে গরুর খাটাল নিয়ে গরু না আসায় আমরা আজ পথে বসে পড়েছি। 
গরু ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের হরিয়ানা ও রাজস্থান থেকে আড়াই থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে গরু কিনে থাকে অগ্রবর্তী দল। ওদেশের ব্যবসায়ীরা এদেশীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বাকীতে গরু দিয়ে থাকে। গরু কেনার পর সীমান্ত পর্যন্ত পরিবহন ব্যয় হয় গরু প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সীমান্ত পার করতে ঝুঁকি গ্রহণকারী দলকে দিতে হয় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা।
দেশের অভ্যন্তরে রাখার খরচ, ঘাট চার্জ, খাওয়ানো ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চার্জ মিলিয়ে প্রতি গরুতে ব্যবসায়ীদের খরচ হয় সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা। দেশীয় বাজারে গরু ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অনেক গরু ৩০/৩৫ হাজারেও বিক্রি হয়। একজন ব্যবসায়ীর প্রতি গরুতে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লাভ থাকে। এ অধিক লাভজনক ব্যবসায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন লোক ঝুঁকে পড়ছে।
জানা গেছে, পাঁচভুলোট, গোগা, হরিশচন্দ্রপুর, রুদ্রপুর, চান্দুটিয়া, পুটখালি, রঘুনাথপুর, ঘিবা প্রভৃতি ঘাট দিয়ে গরু চোরাচালান বেশি হয়। এ গরু বিক্রির জন্য পুটখালিতে একটি অস্থায়ী হাট সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভারতীয় গরু বিক্রি হয় বাগআঁচড়ার সাত মাইল হাটে। অবশ্য সীমান্তের সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী গরু আদমদানির কম বেশি হয়। হাট থেকে নগদ টাকায় গরু কিনে নেয় দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা। তারা ট্রাকযোগে গরু বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। শুল্ক কড়িডোরের ভ্যাট দেওয়ায় গরুগুলো দেশি গরুর রূপ পায়।
এ ব্যাপারে বিজিবির সঙ্গে কথা বললে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে চোরাই পথে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ রয়েছে বলে জানান।
জামাল হোসেন/এসএস/পিআর