আছাড় খালি আর ইস্কুলি যাওয়া হয় না


প্রকাশিত: ০৮:৫৭ এএম, ২৭ জুলাই ২০১৬

‘প্যান গুটোয়ে (প্যান্ট গুটিয়ে) বই মাথায় নিই, তারপরও কাদা ছিটে গায় লাগে, লাফ দিয়ে কাদা পার হতি যাইয়ে আছাড় খাই। আছাড় খালি আর ইস্কুলি যাওয়া হয় না।’ এভাবেই দুর্ভোগের কথা জানালো পলাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী আল মামুন।

শুধু মামুন নয়, বর্ষাকালের কাঁচা রাস্তার এ দুর্ভোগ এই এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দার। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পলাশীর মোড় থেকে বাসুদেবপুর মোড় পর্যন্ত এই এক কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের অভাবে এ দুর্ভোগ।

স্থানীয়রা জানান, মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ পলাশী ও বাসুদেবপুর। পলাশীতে রয়েছে পলাশী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পলাশী কলেজিয়েট স্কুল।

এই স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করেন শরণপুর, চন্দ্রপুর, বাসুদেবপুর ও পোটিসহ আশপাশের গ্রামের ছেলেমেয়ারা। পলাশীর মোড় থেকে বাসুদেবপুর মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীদের। বর্ষার দিনে এই সড়কে হাঁটু পর্যন্ত কাদা হয় এমন কথাও জানান তারা।  

Monirampur

পলাশী গ্রামের দিলীপ কুমার ও পলাশ খাঁ জানান, এই রাস্তাটিই এখন তাদের দুঃখ। রাস্তা পাকা না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তারা কষ্ট পাচ্ছেন।

তারা আরো জানান, ‘আমরা যারা কৃষক; তারা বাজারে বিক্রির জন্য মাঠ থেকে সবজি তুলে সেই সবজি ঘাড়ে করে অনেক কষ্টে বাজারে নিতে হয়। রাস্তায় রিকশা, ভ্যান কিছুই চলতে পারে না। বাচ্চাদের স্কুল কলেজে যেতে অনেক কষ্ট করে। কষ্টের কারণে অনেকে ঠিকমতো বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। এসব বিষয়ে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

রোহিতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, এ রাস্তাটি স্কুল সংলগ্ন হওয়ায় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমি আন্তরিক হলেও নানা কারণে সড়কটি এখনও পাকা করা সম্ভব হয়নি। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেছেন।

মিলন রহমান/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।