ডিমলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
নীলফামারী জেলার ডিমলায় ছালেহা বেগম (১৪) নামে এক সন্তানসম্ভবা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূ মঙ্গলবার বিকালে রংপুর হাসপাতালে মারা গেলে বুধবার দুপুরে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
জানা যায়, গয়াবাড়ী ইউনিয়নের কলেজপাড়া গ্রামের আকবর আলীর মেয়ে ছালেয়া বেগমের সঙ্গে নাউতরা ইউনিয়নের আকাশকুড়ি (গোদার বাজার) গ্রামের নইজার উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিনের (২০) একবছর আগে বিয়ে হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দু’জনে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরির সুবাধে প্রেমের বন্ধনে জড়িয়ে বিয়ে হলেও যৌতুকের টাকার জন্য ওই গৃহবধূর ওপর শ্বশুরবাড়ীর লোকজন প্রতিনিয়ত নির্যাতন করতো। বিয়ের সময় ৪০ হাজার টাকা দেয়া হলেও শ্বশুরবাড়ীর লোকজন আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করে।
মঙ্গলবার সকালে ছালেহাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডিমলা হাসপাতালের ভর্তি করায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে রংপুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রংপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে ছালেয়া মারা যায়।
মেয়েটির মা হামিদা বেগম অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, মেয়ের জামাই ও তার শ্বশুরবাড়ীর লোকজন আরো ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবি করে নির্যাতন করতো। নির্যাতনের কারণে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে নাউতরা ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম লেলিন জাগো নিউজকে বলেন, উভয় পরিবারের মধ্যে এ নিয়ে আপোষ-মীমাংশা করে দেয়া হয়েছে। মেয়ে পক্ষকে ছেলে পক্ষের কাছ থেকে ৪১ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।
ডিমলা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো পরিবার মামলা করতে রাজি হয়নি। নিহতের পরিবার মামলা করতে রাজি না হলে পুলিশের কি করার আছে।
জাহেদুল ইসলাম/এএম/এবিএস