সীমান্তে বিজিবির নারী সৈনিকদের টহল শুরু


প্রকাশিত: ১২:৫০ পিএম, ৩১ জুলাই ২০১৬

সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পুলিশের পর এবার সীমান্তরক্ষার দায়িত্বে থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নারী সৈনিকের যাত্রা শুরু হয়েছে।

প্রথমবারের মতো বিজিবির ১৫ নারী সৈনিককে রোববার সকালে বেনাপোলে সীমান্তে নিয়োগ দেয়া হয়।

গত ৫ জুন প্রথম ব্যাচের ৯৭ জন নারী বিজিবির কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এদের মধ্যে ১৫ জনকে যশোর ২৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নে পাঠানো হয়। এই ১৫জনই বেনাপোল বিজিবির আইসিপি (চেকপোস্ট) ক্যাম্পে যোগ দেন।

এদের মধ্যে চেকপোস্ট ক্যাম্পে ১৩জন ও আমড়াখালি চেকপোস্ট ক্যাম্পে দুইজন যোগ দেন। রোববার দুপুরে তাদের দুইজনকে বেনাপোল চেকপোস্টে কর্তব্য পালন করতে দেখা গেছে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, নানা পেশায় পুরুষের পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণ ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজিবিতে ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো নারী সৈনিক নিয়োগ দেয়া হয়। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুল’ এ মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে গত ৫ জুন প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে নারী সৈনিকদের প্রথম ব্যাচটি বিজিবিদের কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

যোগদানের পরপরই তাদেরকে টেকনাফ ও বেনাপোলের মতো যেসব এলাকায় নারী পাচারকারীদের আনাগোনা সেখানে পোস্টিং দেয়া হয়। পাশাপাশি বিজিবির গেটগুলোতেও পুরুষের পাশাপাশি দায়িত্বে থাকবে বিজিবি নারীরা। এ বছর আরো ১০০ জন নারী সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ জুলাই মাসে শুরু হয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্পে ঋতু, নারগিছ, তানিয়া সুলতানা, মৌসুমি সাগরিকাসহ মোট ১৩ জন সদস্য যোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে নারগিছ খাতুন জানান, ট্রেনিং শেষে তারা প্রথমে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে যোগদান করে ডিউটি করছেন। তাদের এ পেশা কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভালই লাগছে। দেশের জন্য কাজ করতে পেরে ভালই লাগছে। সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে পারলে আরো ভাল লাগবে। আমরা দায়িত্বে অবহেলা করব না।

বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্প সুত্র জানায়, বিজিবি নারীরা রাতে কোনো ডিউটি করবে না। তারা শুধু দিনের বেলায় বেনাপোলের আমড়াখালি এবং সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডসহ বিভিন্ন পোস্টে কর্তব্য পালন করবেন।

বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের হাবিলদার কামাল হোসেন বলেন, নারী বিজিবি অবশ্যই সীমান্তে প্রয়োজন। কারণ সীমান্ত দিয়ে অনেক নারী পাচারকারী যাতায়াত করে। অনেক সময় এসব নারী পাচারকারীদের পুরুষ বিজিবি চেক করতে পারে না। অনেক পাসপোর্টযাত্রীও বৈধপথে অবৈধ পণ্য নিয়ে দেশের মধ্যে প্রবেশ করে। সন্দেহ হওয়া সত্ত্বেও তাদের তল্লাশি করা সম্ভব হয় না। নারী বিজিবি সদস্য যোগ হওয়ায় আর সে বাধা রইল না।

যশোর ২৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে.কর্ণেল জাহাঙ্গীর হোসেন সীমান্তে নারী সৈনিক যোগদানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজিবিকে আধুনিকায়ন করতে পুরুষ সৈনিকদের পাশাপাশি নারী সৈনিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে সন্ত্রাস জঙ্গি অস্ত্র মাদক প্রতিরোধে বিজিবির ডগস্কোয়াড ব্যবহার করা হচ্ছে। চোরাচালান ও সীমান্ত রক্ষায় যা যা প্রয়োজন তাই করা হবে বলেও জানান তিনি।  

তিনি বলেন, একজন বিজিবি সৈনিক হিসেবে দেশও তাদের কাছে ভালো কিছুর আশা রাখে। আমার বিশ্বাস তারাও পারব। শৃঙ্খলা ও দক্ষতার সঙ্গে নারী পাচার, মাদকসহ সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান বন্ধে পুরুষ সৈনিকদের পাশাপাশি কাজ করবে নারী সৈনিকরাও।

মো. জামাল হোসেন/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।