জাল টাকা উদ্ধার অভিযানে গিয়ে জনতার হাতে অবরুদ্ধ পুলিশ
কুমিল্লায় জাল টাকা উদ্ধার অভিযানে গিয়ে জনতার হাতে অবরুদ্ধ হয়েছেন এক এএসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য। সাদা পোশাকে অভিযানের নামে ব্যবসায়ীকে জাল টাকা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে উত্তেজিত এলাকাবাসী তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।
সোমবার সকাল ৮টার দিকে জেলার বাঙ্গরা বাজার থানার হায়দরাবাদ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার উপর লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। এসময় অন্তত ২০ গ্রামবাসী আহত হন।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকাল ৮টার দিকে বাঙ্গরা থানার এএসআই মোসলেমসহ তিন পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে হায়দরাবাদ বাজারে জাল টাকা উদ্ধার অভিযানে যায়। এসময় বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল মিয়ার দোকানে জাল টাকা রয়েছে এমন অভিযোগে পুলিশ তাকে আটকের চেষ্টা চালায়।
ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া জানান, এএসআই মোসলেম তার সঙ্গে করে দুই লাখ টাকার জাল নোট নিয়ে এসে তার দোকানে ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। তিনি চিৎকার করলে বাজারের ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় লোকজন ওই পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে।
খবর পেয়ে বাঙ্গরা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে রাবার বুলেট, টিয়ারসেল ও লাঠিচার্জ করে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
এদিকে, খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) ইকবাল হোসেন হাজারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রাম থেকে হায়দরাবাদ বাজারে বিপুল পরিমাণ জাল টাকার একটি চালান এসেছে এমন খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার এএসআই মোসলেমসহ পুলিশ সদস্যরা অভিযানে যায়। এসময় অভিযান চালিয়ে একটি দোকান থেকে দুই লাখ জাল টাকা উদ্ধার করার চেষ্টাকালে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে ঘিরে ফেলে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ফাঁকা গুলি করে লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে।
রাত সাড়ে ৭টায় বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, জাল টাকা উদ্ধার অভিযানে কিছু দুষ্কৃতকারী কর্তব্যরত পুলিশকে অবরুদ্ধ করে। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চার পুলিশ আহত হয়। সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কামাল উদ্দিন/এআরএ/এবিএস