বন্যায় বীজতলা নষ্ট, উদ্বিগ্ন কৃষকেরা
গাইবান্ধার চার উপজেলায় বন্যার পানিতে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আমন ধানের চারা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। ফলে চলতি মৌসুমেও রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, বন্যাকবলিত এলাকায় কলাগাছের ভেলায় মাটি দিয়ে ভাসমান বীজতলা করে চারা সংকট নিরসনের চেষ্টা করছেন কৃষকেরা।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের কৃষক যুগল চন্দ্র সরকার বলেন, এক বিঘা জমিতে বীজতলা তৈরি করেছি। কিন্তু বন্যার পানিতে বীজতলা ডুবে চারা পচে গেছে।
ফুলছড়ির কৃষক শামীম মিয়া জানান, পাঁচ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান চাষের ইচ্ছে ছিল। এর মধ্যে বহুকষ্টে জেলার গোবিন্দগঞ্জ থেকে চারা সংগ্রহ করে মাত্র দুই বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন তিনি। বাকি তিন বিঘা জমি চারার অভাবে চাষ করতে পারেননি। এ সমস্যা শুধু ফুলছড়ির নয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাকি উপজেলাতেও বিরাজ করছে একই অবস্থা।
এদিকে জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ীসহ বিভিন্ন উঁচু এলাকায় আমন চারা পাওয়া গেলেও তার দাম দুই থেকে তিন গুণ বেশি। এছাড়া চারা পরিবহনেও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ১৮ হাজার ৭১২ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, রোপা আমন, আউশ ধানসহ শাক-সবজি তলিয়ে গেছে। এছাড়াও অন্যান্য ফসলি জমি তলিয়ে গেছে ৬৬৭ হেক্টর।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, বন্যা-পরবর্তী অবস্থায় পুনরায় ৮৪ হাজার ৪৭১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চারা সংকটে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।
গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান, জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলাকে বন্যাকবলিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকার আমন বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন জানান, বন্যায় ১৮ হাজার ৭শ’ ১২ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, রোপা আমন, আউশধানসহ শাক-সবজি তলিয়ে গেছে। এছাড়াও অন্যান্য ৬শ’ ফসলি জমি তলিয়ে যায়।
অমিত দাশ/এএম/এমএস