খুলনায় ফর্সা হওয়ার ক্রিমের বিক্রি বেড়েছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি খুলনা
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬

ঈদ ঘিরে খুলনার প্রসাধনী সামগ্রীর বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। পোশাকের পাশাপাশি রুপ চর্চার দিকেও নজর রয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের। তবে নকল পণ্য আর অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি হওয়ার দোকানগুলোতে ক্রেতা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

খুলনা শহরের নিউ মার্কেট, আক্তার চেম্বার, দৌলতপুর, সোনাডাঙ্গা ও বয়রা এলাকার একাধিক বাজার ঘুরে এমনটা দেখা যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, খুলনায় প্রসাধনী সামগ্রীর খুচরা ও পাইকারি দোকানের সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ফেসওয়াশ, স্কিন ক্রিম, লিপস্টিক, হেয়ার কালার ও শ্যাম্পুর বিক্রি বেশি হচ্ছে। দেশি ও বিদেশি দুই ধরনের পণ্যই রয়েছে। আগে শুধু নারীদের প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি বেশি হলেও এখন পুরুষদের গ্রুমিং পণ্যও বিক্রি বেড়েছে। ফেসওয়াশ, হেয়ার জেল ও স্কিন কেয়ার পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে। তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রসাধনীর বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা পর্যায়ের দোকানদাররা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

খুলনা ডাকবাংলা মার্কেটের একজন প্রসাধনী ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, খুলনার বাজারে কসমেটিকসের খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতা সংখ্যা বেড়েছে। বাজার অনেক বড় হয়েছে। আগের থেকে কসমেটিকসের ক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে। তবে অনলাইনে বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি বিক্রির পাশাপাশি অনলাইনে বিক্রি করছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি সব ধরনের প্রসাধনী ও রূপ চর্চার সামগ্রী বিক্রি করি। আমার এখানে লিপিস্টিক ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকা দর পর্যন্তও রয়েছে। এছাড়া পারফিউম ৩০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকারও রয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। তবে কসমেটিকস তৈরির কাঁচামাল আমদানি নির্ভর হওয়ায় বর্তমানে সব ধরনের পণ্যের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

হকার্স মার্কেটের জয় কসমেটিক্সের স্বত্বাধিকারী আফনান আলমগীর বলেন, কসমেটিকসের দাম একটু বাড়তি। এজন্য ক্রেতাও কমে গেছে। অনেক প্রয়োজন না হলে কেউ কসমেটিকস কিনতে চাচ্ছেন না। তবে ফেসওয়াশ ও ফর্সা হওয়ার ক্রিমের বিক্রয় বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে প্রোডাক্ট কিনে বিক্রয় করি। এখানে নকল হওয়ার সুযোগ নেই। তবে আমরা বাড়তি দামে বিক্রয় করি না। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রয় হচ্ছে।

বয়রা বাজারের কসমেটিক্স ব্যবসায়ী ঈশান তালুকদার বলেন, কসমেটিকসের বিক্রয় বেড়েছে। তবে অনলাইনে বিক্রয় বেশি হওয়াতে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর একটা চাপ তৈরি হয়েছে। অনেকে এখন ঘরে বসেই পণ্য অর্ডার করেন। এজন্য আমি সরাসরি বিক্রির পাশাপাশি অনলাইনে প্রোডাক্ট বিক্রি করি। অনলাইনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে প্রোডাক্ট বিক্রি করার চেষ্টা করি। বেশি দামি প্রোডাক্ট আসলে ভোক্তারা সরাসরি এসে ক্রয় করতে চান। এজন্য ছোট ছোট পণ্য অনলাইনে বেশি বিক্রি হয়।

আখতার চেম্বারের উজ্জল ভ্যারাইটি শপে আসা ফরিদা পারভিন বলেন, ঈদে ও বিশেষ সময় ছাড়া প্রসাধনী ক্রয় করা তেমন একটা প্রয়োজন হয় না। রূপচর্চা করলে মানসিক একটা শান্তি মেলে। এজন্য আসলে মনের শান্তির জন্য রূপ চর্চা করতে হয়।

তিনি বলেন, একটি সানস্ক্রিন ক্রয় করেছি ৯৫০ টাকা দিয়ে। আগে এ পণ্য ক্রয় করতাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। এবার দেখেছি দাম অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেস পাউডার ভালো মানেরটা এখন ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা। এ ধরনের দাম একটু কম থাকলে ভালো হয় বলে।

নিউ মার্কেটে আসা কামরুজ্জামান বলেন, মেয়ের জন্য মেকআপ কিনতে এসেছি। ছোট মেয়ে বছরে একবার ঈদের সময়ে মেকআপ আর সাজার জিনিসের বায়না ধরে। ওর জন্য কিছু জিনিসপত্র কিনতে এসেছি। একটি মেকআপ বক্স ১ হাজার ৭০০ টাকা ক্রয় করেছি।

অন্য একজন ক্রেতা হুমায়রা খাতুন বলেন, অনলাইনে অনেক প্রোডাক্ট ক্রয় করি। তবে বেশি দামের বা বিদেশি কসমেটিকস কিনতে হলে সরাসরি দোকানেই আসি। অনেক সময় নকল পণ্যও অনলাইনে বিক্রি হয়। কিন্তু বোঝার উপায় থাকে না। এজন্য পরিচিত দোকান থেকে পণ্য ক্রয় করলে সন্দেহ থাকে না।

খুলনা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, বিএসটিআই থেকে ১৯ ধরনের কালার এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করে কসমেটিকস পণ্য তৈরি নিষেধ রয়েছে। এগুলো বিক্রিও নিষেধ। আর নকল প্রোডাক্ট ধরতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

আরিফুর রহমান/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।