নানিয়ারচরে সেনা-সন্ত্রাসী বন্দুকযুদ্ধ : আটক ১২

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:১৭ এএম, ১২ আগস্ট ২০১৬

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ারচরে সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের খবর পাওয়া গেছে। এসময় উভয়ের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময় হয়। এতে ২ সেনা সদস্যসহ সন্ত্রাসীদের অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১২ জনকে আটক করেছে সেনা সদস্যরা।

শুক্রবার ভোরে উপজেলার সাবেক্ষং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খাগড়াছড়ির মহালছড়ির উপজেলা সীমান্তবর্তী মুবাছড়ি ও জ্ঞানছড়া নামক দুর্গম পাহাড়ি এলাকা সাবেক্ষং মধ্যমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা ও জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে ঘটনাটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, ওই এলাকায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে অভিযানে নামে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি জোনের সেনা সদস্যরা। পরে সন্ত্রাসীদের ধরতে এলাকাটি ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী। এসময় সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।

সন্ত্রাসীরা ইউপিডিএফ সমর্থনপুষ্ট বলে শোনা গেলেও তা অস্বীকার করেছে সংগঠনটি। ঘটনার পর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনী। এ সময় ১২ জনকে আটক করা হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

ঘটনার ব্যাপারে নিরাপত্তাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাবেক্ষং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুশীল জীবন চাকমা সুপন জানান, এলাকাটি খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী আমার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। ঘটনা সঠিক তবে এখনও ঘটনার বিস্তারিত জানা যাচ্ছে না।
 
ইউপিডিএফ সমর্থনপুষ্ট ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতা অনিল চাকমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই ঘটনার বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই। তাছাড়া এ ধরনের কোনো বন্দুকযুদ্ধে তাদের কেউ জড়িত থাকার বিষয়টি প্রশ্নই আসে না। ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন। তাদের কোনো সশস্ত্র গ্রুপ নেই। তবে ওই এলাকাটি সংস্কারপন্থী গ্রুপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মহালছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেমায়েত কবির চৌধুরী বলেন, সেনাবাহিনী ও সংস্কারপন্থী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির খবর শোনা গেছে। কিন্তু এর বিস্তারিত কিছুই জানা নেই। এলাকাটি রাঙামাটির নানিয়ারচর থানার অন্তর্ভূক্ত।

নানিয়ারচর থানা পুলিশের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান বলেন, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে ওই এলাকাটির নাম মুবাছড়ি। ওই এলাকায় শুক্রবার ভোর রাতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়েছে।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।