ভারতের স্বাধীনতা দিবস ঘিরে সীমান্তে রেড অ্যালার্ট


প্রকাশিত: ০১:১৩ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৬

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জঙ্গি হামলা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশংকায় দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত জুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। জঙ্গি হামলার ভয়ে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে প্রতিবছরই সীমান্ত সিল করে থাকে ভারত সরকার।

ভারতীয় বিভিন্ন সূত্রে এবং বাংলাদেশ বিজিবি ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণের সাতক্ষীরা থেকে শুরু করে পশ্চিমে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যগুলোর সড়ক ও রেলপথসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে অতিরিক্ত সৈন্য ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কলকাতাসহ আশেপাশের হোটেল ও আবাসিক এলাকাগুলোতেও কড়া নজরদারি চলছে।

এই সময়টাতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের সীমান্ত এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সীমান্ত থেকে ভারতের ভেতরে ঢোকা সব সড়কে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ক্রটি হয়েছে কি না অথবা অবহেলা করা হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য সীমান্ত গোয়েন্দার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্ধার পর পরই সীমান্তের জিরো পয়েন্টে যে কাউকে দেখা মাত্রই গুলির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

INDIA

গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর পরই কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স এবং সিআইডি রাজ্যের সর্বত্র নজর রাখতে শুরু করেছে। ১৫ আগস্ট যাতে কোনোভাবেই কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীরা হামলা চালাতে না পারে সে জন্য আগে থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

সম্প্রতি বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হয় মুসা নামে এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে। মুসাকে জেরার পর থেকেই এ রাজ্যে আইএস মতিউল রয়েছে বলে খোঁজ শুরু করেন গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের গ্রামগুলিতে জামায়াতে ইসলামির সহযোগিতায় প্রভাব বিস্তার করছে আইএস। ওই সমস্ত অঞ্চলে শিক্ষিত কিন্তু বেকার যুবকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ শুরু করেছে আইএস। এ রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই সতর্কতাও আরো জোরদার করা হয়।

ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীদের সন্ধ্যার পর বিনা কারণে সীমান্ত এলাকায় ঘোরাফেরা না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে বিএসএফ। রাতে বিএসএফ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে অত্যাধুনিক সার্চ লাইট দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাংলাদেশীদের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি করছে। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত সীমান্ত এলাকায় জোরদার করা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

যশোর ২৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে.কর্ণেল জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, অবৈধভাবে যাতে কেউ সীমান্ত পারাপার করতে না পারে সে জন্য বিজিবির সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত আছে। এছাড়া সীমান্তে সন্ত্রাস, জঙ্গি, অস্ত্র, মাদক প্রতিরোধে বিজিবির ডগ-স্কোয়াড ব্যবহার করা হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবি সব সময় সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, ১৫ আগস্টে ভারত সরকার সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে শুনেছি। বেনাপোলের বিপরীতে পেট্রাপোল সীমান্তেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।  

মোঃ জামাল হোসেন/এএম/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।