ভেসে গেছে ঘেরের মাছ : পানিবন্দি হাজারো মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৩:২৬ পিএম, ২২ আগস্ট ২০১৬

টানা বৃষ্টির ফলে বাগেরহাট জেলার আশি ভাগ মাছের ঘের ভেসে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আমনের বীজতলা, পানের বরজসহ অন্যান্য সবজির মাঠ। একই সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে পড়েছে।

রোববার দিনভর ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানিতে বাগেরহাট পৌর শহরসহ জেলার অধিকাংশ উপজেলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় জেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো বাতাসে জেলার চিতলমারি উপজেলায় অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে এবং দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি পড়ে গেছে।

বাগেরহাট পৌরসভার নাগেরবাজার, বাসাবাটি, খারদ্বার, আলিয়া মাদরাসা সড়ক, মিঠাপুকুরপাড়, রেলরোড, সাহাপাড়া ও হাড়িখালি এলাকার রাস্তায় ও বাড়ির উঠানে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। বাড়ি ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় তাদের রান্না খাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া, বেমরতা, বিষ্ণুপুর, ষাটগম্বুজ, ডেমা ও যাত্রাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে। ঘের মালিকরা তাদের ঘেরের আইলে নেট (জাল) দিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা করছেন। এছাড়া রামপাল উপজেলায় ৬০ ভাগ, মোল্লাহাটে ৯০ ভাগ, কচুয়াতে ৮০ ভাগ, ফকিরহাটে ৭০ ভাগ, চিতলমারিতে ৭০ ভাগ, মোরেলগঞ্জে ৭০ ভাগ, মংলাতে ৮০ ভাগ ও সদর উপজেলায় ৭০ ভাগ মাছের ঘের ভেসে গেছে।

বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির আহ্বায়ক ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন জাগো নিউজকে বলেন, টানা বৃষ্টিতে জেলার অধিকাংশ মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে। আর যেগুলো পানি ছুঁইছুঁই করছে সেগুলোতে নেট দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছেন ঘের মালিকরা। এতে ঘের মালিকরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এসব ক্ষতিগ্রস্ত ঘের মালিকদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আব্দুল অদুদ বলেন, দেশে চিংড়ি উৎপাদনে বাগেরহাট জেলা অন্যতম। টানা বর্ষণে এই জেলার রামপাল উপজেলায় ৭০ ভাগ, মোল্লাহাটে ৯০ ভাগ, কচুয়াতে ৮০ ভাগ, ফকিরহাটে ৭০ ভাগ, চিতলমারিতে ৭০ ভাগ, মোরেলগঞ্জে ৭০ ভাগ, মংলাতে ৮০ ভাগ ও সদর উপজেলায় ৮০ ভাগ মাছের ঘের ভেসে গেছে।

পানিতে ভেসে সাদাসোনা খ্যাত গলদা ও বাগদা চিংড়ি এবং বিপুল পরিমাণ সাদা মাছ বেরিয়ে গেছে। ফলে ঘের মালিকরা দারুণভাবে আর্থিক ক্ষতিরমূখে পড়বেন বলে আশংকা করছেন ওই মৎস্য কর্মকর্তা।  

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি) মো. আবতাব উদ্দিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার নয়টি উপজেলায় ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে জেলায় মোট ২২ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা, পানের বরাজসহ অন্যান্য সবজির মাঠ পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। এই পানি দ্রুত নেমে না গেলে কৃষকরা দারুণভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে এই কর্মকর্তা আশংকা করছেন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম বলেন, টানা বৃষ্টিতে জেলার নয়টি উপজেলার ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মাছের ঘের ভেসে গেছে। রোপা আমনের বীজতলাসহ সবজির মাঠ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো বাতাসে জেলার চিতলমারি উপজেলায় অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে এবং দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি পড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কৃষি, মৎস্য বিভাগসহ সবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে।

শওকত আলী বাবু/এএম/পিআর