জাজিরায় পদ্মার ভাঙন : নিখোঁজ ২


প্রকাশিত: ০৩:০১ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৬

আবার পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুণ্ডেরচর ইউনিয়নের কলমীরচর খেজুরতলা এলাকায়। বুধবার নিখোঁজ আটজনের মধ্যে ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুজনের খোঁজ মেলেনি।  

নিখোঁজরা হলেন- ঈশ্বরকাঠি গ্রামের মোসলেম ফকির (৭১) ও কলমীরচর খেজুরতলা গ্রামের আ. রশিদ সিকদার (৬৮)। তারা দুজন কৃষক।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার কলমিরচর খেজুরতলা ও ঈশ্বরকাঠি গ্রামে নদী ভেঙে যায় দেখে নিজেদের ঘর সরাতে গিয়ে আটজন পদ্মা নদীর স্রোতে নিখোঁজ হন। গ্রামের লোকজন ছয়জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। কিন্তু এখনো দুজন নিখোঁজ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গত এক মাস ধরে কুণ্ডেরচরের কলমিরচর এলাকার কয়েকটি গ্রামে প্রবল ভাঙন শুরু হয়েছে। সপ্তাহখানেক বিরতির পর মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে হঠাৎ আবার ভাঙন শুরু হয়।

এরই মধ্যে নদীভাঙনে কুণ্ডেরচর ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম, খেজুরতলা বাজার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, পাকা সড়ক, পল্লী বিদ্যুতের লাইন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পদ্মাবক্ষে বিলীন হয়েছে। এতে পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের বসতবাড়ি হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

পদ্মা পারের কুণ্ডেরচর ইউনিয়নের চোকদার কান্দি গ্রামের গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য মানুষের ভিড়। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পদ্মা নদীর ভাঙন দেখতে এসেছেন তারা। মুহূর্তেই হারিয়ে যাচ্ছে ভিটা, কবরস্থান। এর মধ্যেই স্থাপনা সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হতে দেখা যায় অনেককে। ভিটামাটি হারিয়ে অনেকেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন। কেউ কেউ ছুটছেন আশ্রয়ের খোঁজে।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হক বলেন, নদীভাঙনে নিখোঁজদের উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়া হবে। আমাদের লোকজন ঘটনাস্থলে গেছে। তারা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে।  

মো. ছগির হোসেন/এএম/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।