সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় করে এখনো মার্কেটে ঢুকতে পারেননি নিম্নবিত্তরা

আলমগীর হোসাইন আলমগীর হোসাইন , জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ এএম, ১৪ মার্চ ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর অত্যন্ত আনন্দের উৎসব ঈদ। কিন্তু এ আনন্দ কি সবার হয়ে ওঠে? নাকি চিন্তায় বিষাদের গল্প বোনে কেউ কেউ? সন্তান-সন্ততি ও পরিবার পরিজনের ছোট্ট চাওয়া একটা নতুন পোশাক ঘিরে অনেকেই এমন গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়েছেন। আর এ শ্রেণির নাম নিম্নবিত্ত বা গরিব। তাদের ঈদ যেন অনেক হিসাব শেষে সাধ আর সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করা। নিত্যপণ্যের বাজার সামলে ঈদে সেমাই-চিনির জোগান নিশ্চিতের পর তাদের পোশাকি ঈদের গল্প শুরু হয়।

এবার ঈদে পাবনায় আগের স্তরগুলো সম্পন্ন করতে পারেননি অধিকাংশ নিম্নবিত্ত, তাই এখনো মার্কেটে ঢুকতে পারেননি তারা। ফলে গরিবের মার্কেটগুলোতে শুরু হয়নি ঈদের সেই বেচাকেনার আমেজ।

তথ্য বলছে, প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো জেলা শহরের অত্যন্ত পুরোনো একটি মার্কেট পাবনা পৌর হকার্স মার্কেট। এটি স্থানীয়দের কাছে নিম্নবিত্ত বা গরিবের মার্কেট হিসেবেই পরিচিত। কারণ এখানে অত্যন্ত অল্প মূল্যে পোশাক মেলে। এতে ঈদ বা সাধারণ কেনাকাটায় এখানেই ভিড় জমান খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শহরের অন্যান্য মার্কেটের থেকে ব্যতিক্রম এই মার্কেটটি। রমজানের শুরু থেকে অন্যান্য মার্কেট বা বিপণী বিতানগুলোতে কেনাকাটার ব্যস্ততা বাড়লেও শুরুতে ঈদের বেচাকেনার আমেজ থাকে না এই মার্কেটে। সাধারণত ১৫তম রমজানের পর এখানে ক্রেতা আসতে শুরু করেন। এসময় থেকে তাদের বেচাকেনা শুরু হয়। তবে এবার চিত্র তেমন নয়। ২০তম রমজান অতিক্রম করলেও এবার এখনো তেমন ক্রেতাসমাগম দেখা যায়নি মার্কেটটিতে।

সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় করে এখনো মার্কেটে ঢুকতে পারেননি নিম্নবিত্তরা

একই অবস্থা গরিবের ভ্রাম্যমাণ মার্কেট ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। পৌর হকার্স মার্কেটের শোভা গার্মেন্টসের মালিক শরীফ হোসাইন বলেন, ‘গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও এবারের তুলনায় ভালো বেচাকেনা হয়েছিল। ১০ থেকে ২০ রোজা পর্যন্ত দিনে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিক্রি হইছে। এবার ১২-১৫ হাজারের বেশি হচ্ছে না।’

শরীফ আরও বলেন, ‘এখানে সাধারণত অল্প আয়ের মানুষ অল্প দামে পোশাক কিনতে আসেন। অনেক গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে অনেকে কাজ হারিয়েছেন। নিত্যপণ্যই কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। কীভাবে ভালো ঈদ যাবে অল্প আয়ের মানুষগুলোর? আর কীভাবে আমাদের বেচাকেনা বাড়বে?’

দোকানি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমার এখানে ৩০০ টাকার প্যান্টও আছে। আর সর্বোচ্চ আছে ৮০০ টাকা দামের। এরকম অল্প টাকার ক্রেতাই এখানে বেশি আসেন। কিন্তু এবার ২০ রোজা পার হলেও তেমন বেচাকেনার ভাউ দেখছি না। এই ঈদের চেয়ে গত কোরবানির ঈদেও আমার বেচাকেনা বেশি ছিল। ১৫ রোজার পর থেকে ১০-১৫ হাজার টাকার মতো বিক্রি হচ্ছে। ১০ থেকে ১৫ রোজা অবধি কমপক্ষে ২৫-৩০ হাজার টাকার বিক্রি হতে হবে। ২০ রোজা থেকে আরও বেশি না হলে তাকে আর ঈদের বেচাকেনা বলা যায় না।’

রাজিব ফ্যাশনের রাজিব বলেন, আমাদের ক্রেতারা অন্যান্য বাজার সদাই আগে নিশ্চিত করবে। এরপর যাদের সম্ভব হবে এখানে আসবে।

সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় করে এখনো মার্কেটে ঢুকতে পারেননি নিম্নবিত্তরা

বিক্রেতাদের কথার মিল পাওয়া গেলো মার্কেট ঘুরে। মার্কেটের ৫৯টি দোকানের হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ দোকানে নেই তেমন ক্রেতা সমাগম। কেউ কেউ এলেও দাম শুনছেন ও ধারণা নিচ্ছেন। এমনই একজনের সঙ্গে কথা হলো যিনি পেশায় শ্রমিক। এক ছেলে অনার্স পড়ছেন, অন্যজন স্কুলে।

নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন অবশ্যই আনন্দের। কিন্তু এর আগের সময়টা খুব চিন্তার ও দুর্বিষহ। রোজা শুরু হওয়া থেকে এ চিন্তা বাড়তে থাকে। নিজের জন্য বা স্ত্রীর জন্য না হোক অন্তত ছেলেপেলেদের জন্য টুকটাক পোশাক কিনতেই হবে। এদিকে ৪০০-৫০০ টাকা আয়ে ওদের লেখাপড়া ও সাংসারিক ব্যয় মেটে না। বড় ছেলেকে কষ্টে ম্যানেজ করে কিছু টাকা দিয়েছি। কিন্তু স্ত্রী ও ছোট ছেলেটার জন্য কেনা হয়নি। ভোর থেকে একটা বাড়িতে হাফ বেলার মতো কাজ করেছি। এখন ভাবলাম মার্কেটের হাল হকিকত জেনে আসি। এদের জন্য কেনা হলে ঈদের বাজার সদাই করতে হবে।’

স্ত্রী ও শিশু ছেলেকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা রফিক শেখ বলেন, ফার্নিচারের কাজ করি। পোশাকের যা দাম, চাইলেও পছন্দসই পোশাকটা কেনা যায় না। এদিকে নজরতো ভালোটার দিকেই যায়। এখন বাজেটের মধ্যে মিলিয়ে কিনতে হবে আরকি।

এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।