৩ পার্বত্য জেলায় হরতাল রোববার
পার্বত্য জনগণের আন্দোলনকে উপেক্ষা করে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১ ও সংশোধনী ২০১৬ বাস্তবায়নের জন্য আগামীকাল রোববার বৈঠক করার প্রতিবাদে তিন পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক ও বৈঠকের স্থল ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচটি বাঙালি সংগঠন।
সংগঠনগুলো হলো, বাঙালি পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য গণপরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্যপরিষদ।
ভূমি কমিশনের বিপক্ষে হরতাল ও ঘেরাও কর্মসূচিসহ গড়ে তোলা কর্মকাণ্ডে রাঙামাটিসহ পার্বত্য অঞ্চলে বাড়ছে উত্তাপ।
হরতাল ও ঘেরাও কর্মসূচি সফল করতে শনিবার বেলা ১১টায় শহরের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য গণপরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্যপরিষদ।
এ সময় পার্বত্য গণপরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, মহাসচিব অ্যাডভোকেট আলম খান ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্যপরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আবছার হোসেন রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পার্বত্য গণপরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার বলেন, সরকারের এ ধরনের বাঙালি স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড আমরা কখনো মেনে নিতে পারি না। যেকোনো মূল্যে সরকারের ভূমি কমিশন কার্যক্রম রুখে দিতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করব।
এছাড়া ‘পার্বত্য ভূমিরক্ষা আন্দোলন’ নামে নতুন আত্মপ্রকাশ করা আরেকটি সংগঠন ওই পাঁচ সংগঠনের ডাকা হরতালের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। শনিবার সকালে রাঙামাটি শহরের রেস্টুরেন্ট রেইনবোতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংহতির ঘোষণা দেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে ২১ সদস্যবিশিষ্ট এ সংগঠনের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মুন্না, জাহাঙ্গীর কামাল, অ্যাডভোকেট আবছার আলী ও কাজী মো. জালোয়া উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিকল্পে দ্রুত কাজ করার উদ্দেশে ১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় ভেটিং সাপেক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন-২০১৬ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর ৮ আগষ্ট রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে ৯ আগস্ট সংশোধিত আইনটির উপর অধ্যাদেশ (নং-০১, ২০১৬) জারি করে সরকার।
সুশীল প্রসাদ চাকমা/এএম/এবিএস