টঙ্গীতে বিকাশের নিরাপত্তাকর্মীকে গুলি করে হত্যা
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিকাশের নিরাপত্তাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় তার কাছে থাকা ১৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গীর সাতাইশ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শেখ আব্দুল হামিদ (৫০) অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। তিনি বাগেরহাটের রামপাল বড় কাতলা এলাকার মৃত মমিন উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিকাশ এজেন্টের সুপারভাইজার এমদাদ হোসেন, চালক সুদেব কুমার ও আব্দুল হামিদ গাড়ি নিয়ে সকাল থেকে গাজীপুর ও টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। ফেরার পথে টঙ্গীর সাতাইশ বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘মা মিডিয়া সেন্টারে’ বিকাশের টাকা সংগ্রহ ও ওখানে বসে টাকা গণনা করে বের হবার পর দুটি মোটরসাইকেলে আসা ৩/৪ ছিনতাইকারী তাদের ঘিরে ফেলে।
এরপর টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় নিরাপত্তারক্ষী হামিদ দুর্বৃত্তদের লক্ষ্য করে শর্টগান তাক করলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে পিস্তলের গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এক সময় দুর্বৃত্তরা টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিকাশের এজেন্টের মাইক্রোচালক সুদেব কুমার জানান, তারা গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা, টঙ্গীর সাতাইশ, হোসেন মার্কেট, খাঁপাড়া এলাকা থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। তার দাবি, ব্যাগে ১৫/১৬ লাখ টাকা ছিল।
গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, টাকা তুলে মোটরসাইকেলযোগে ফেরার সময় একই মোটরসাইকেলে হামিদের সঙ্গে আরো দুই সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী ছিল। কিন্তু টাকা ছিনতাইকালে গুলি না করে ওই দুই নিরাপত্তাকর্মীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রশ্নবিদ্ধ।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাদিয়া ইসলাম জানান, হামিদকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকে তিনটি ও মাথায় একটি ক্ষত রয়েছে। তবে তা গুলিতে সৃষ্ট ক্ষত কিনা তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
টঙ্গী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ৮/৯ লাখ টাকা ছিনতাই হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আমিনুল ইসলাম/এআরএ/আরআইপি