পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা হলো না তাদের


প্রকাশিত: ১১:৪৯ এএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

স্ত্রী-সন্তানকে ঘুমের মধ্যে রেখেই সকালে ডিউটিতে আসেন প্রকৌশলী আনিসুর রহমান। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে স্ত্রী নিগারের। বাইরে বেরিয়ে তাকিয়ে দেখেন আগুন এবং ধোঁয়া বের হচ্ছে। খবর নিয়ে জানতে পারেন তার স্বামী যে কারখানায় চাকরি করেন সেখানেই এ বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন লাগে।

সাত বছর ধরে জেনারেটর ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন আনিস। আজ অফিস ছুটির পর কেনাকাটা করবেন স্ত্রী-সন্তানের জন্য। কিন্তু স্ত্রী ও সন্তানের জন্য কেনাকাটা এবং ঈদ করা হলো না আনিসের।

স্ত্রীর বুকফাটা আর্তনাদে হাসপাতাল এলাকা ভারি হয়ে ওঠে। তিনি কারখানা সংলগ্ন স্থানীয় গোপালপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

দুদিন পরই ঈদ। বাবা-মার সঙ্গে ঈদ করার জন্য শনিবারই গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে যাওয়ার কথা ছিল অটোরিকশাচালক রাশিদের। শুক্রবার যানজট থাকায় তার আজ দুপুরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার কথা। কিন্তু চলে গেলেন না ফেরার দেশে। টঙ্গী হাসপাতালের সামনে বাবা সজিম উদ্দিন ও দুই বোন মজিদা এবং বেদানা বিলাপ করে বলছিলেন এ কথা।

বোন মজিদা জানান, দুপুরে বাড়ি যাওয়ার আগে সকালে অটোরিকশা নিয়ে বের হন রাশিদ। সকাল ৬টার কিছু আগে বিসিক এলাকায় ট্যাম্পাকো কারখানা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ ওই কারখানার বয়লার বিস্ফোরণের কারণে দেয়াল চাপা পড়ে তার ভাই নিহত হন।

রাস্তায় ভাইয়ের রিকশা পড়ে থাকতে দেখে তার সন্ধান নিতে এসে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় ভাইকে দেখতে পান। রাশিদের রনি নামে তিন বছরের এক ছেলে রয়েছে।

আমিনুল ইসলাম/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।