পর্যটকের অপেক্ষায় পাহাড়ি কন্যা খাগড়াছড়ি


প্রকাশিত: ০৭:১১ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬

খাগড়াছড়িতে প্রবেশের মুখেই রামগড় চা বাগান ও রামগড় লেক। লেক পেরিয়ে মাটিরাঙ্গার জলপাহাড়। আরেকটু এগুলেই মাটিরাঙ্গার রিছাং ঝর্না। তারপরই রয়েছে আলুটিলার রহস্যময় সুরঙ্গ। মনকাড়া এসব পর্যটন কেন্দ্র যেমন আপনাকে আন্দোলিত করবে তেমনি ঈদে এনে দেবে বাড়তি আনন্দ।

৪০কিলোমিটার দুরত্বের মধ্যে এসব পর্যটন স্পট ঘুরে আপনি যেতে পারবেন জেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে নয়নাভিরাম জেলা পরিষদ পার্ক, হেরিটেজ পার্কে। জেলা শহর ছাড়িয়ে পানছড়িতে রয়েছেন রাবার ড্যাম আর শান্তিপুর অরণ্য কুটির।

parjatan

দীঘিনালার তৈদুছড়া আর হাজাছড়া হতে পারে এবারের ঈদে আপনার বিনোদনের জন্য সেরা পছন্দ। খাগড়াছড়ি ছাড়িয়ে আরো বিনোদনের প্রত্যাশায় আপনি পাড়ি জমাতে পারেন পাশের জেলা রাঙামাটির সাজেক।

Eid

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক অপরূপ লীলাভূমি পার্বত্য খাগড়াছড়ি। বাংলাদেশের এক দশমাংশ পার্বত্য অঞ্চল আগাগোড়াই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি। পাহাড়ের অনেক সৌন্দর্যের মাঝে সৌন্দর্য যেন পূর্ণ মাত্রায় বিকশিত হয়েছে খাগড়াছড়ির কোনায় কোনায়। পাহাড়, ঝর্ণা আর চা বাগানে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে এখানকার সৌন্দর্য।

Eid-parjatan

একেক ঋতুতে সেই সৌন্দর্যে যোগ হয় নতুন মাত্রা। খাগড়াছড়ির শ্যামল সৌন্দর্য মোহিত করবে যে কোনো পর্যটককে। পাহাড়ের অবারিত সৌন্দর্যের পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবন আচার আপনার আগমনকে নিয়ে যাবে ভিন্ন এক জগতে। আপনার আনন্দকে করবে পরিপূর্ণ।

দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ খুব সহজেই আপন করে নিবে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসুদের। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সবুজে আবৃত খাগড়াছড়ির সতেজ প্রকৃতির হাতছানি। পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় পাহাড়ি কন্যা খাগড়াছড়ি যেন মুখিয়ে আছে পর্যটকদের অপেক্ষায়। পর্যটকদের অপেক্ষায় থাকা খাগড়াছড়ি ঈদকে সামনে রেখে যেন নতুন সাজে সাজতে শুরু করেছে। অতিথি বরণে যেন কোনো কমতি নেই।

Eid-parjatan

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে জেলা শহরের প্রায় সকল হোটেলই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে বলে জেলা হোটেল মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে। এবার ঈদের ছুটিতে প্রচুর পর্যটকের আগমনে মুখরিত হবে পাহাড়ি কন্যা খাগড়াছড়ি এমনটাই মনে করছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পের বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে খাগড়াছড়ি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, সম্ভাবনা থাকার পরও খাগড়াছড়িতে সেভাবে পর্যটন শিল্পের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ হয়নি। পর্যটনের সুবিধা বাড়ানো গেলে এখানকার পর্যটনের বিকাশসহ অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন হতে পারতো।

Eid-parjatan

তিনি মনে করেন, জেলা পরিষদ পার্ক, আলুটিলা রহস্যময় সুরঙ্গ বা রিছাং ঝর্ণার পাশাপাশি খাগড়াছড়িতে বিনোদনের জন্য পর্যটন শিল্পের বিকাশ এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কে ঝুলন্ত ব্রিজ আর ট্রেনের পাশাপাশি যদি ক্যাবল কারসহ পর্যটকদের জন্য বিনোদনের আরো সুবিধা গড়ে তোলা গেলে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানো যাবে। এতে খাগড়াছড়িতে আগমন ঘটবে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটকের।

এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।