পাহাড় যেখানে আকাশ ছুঁয়েছে


প্রকাশিত: ০৩:৪০ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬

প্রকৃতির টানে ঈদ আনন্দযাত্রায় গ্রামছাড়া রাঙ্গামাটির পথে পথে পা বাড়িয়েছেন ভ্রমণপিপাসু অভিযাত্রীরা। ইতোমধ্যে রাঙামাটি গিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন বহু পর্যটক। অবস্থান নিয়েছেন প্রকৃতির সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে। সপ্তাহজুড়ে বুকিং হয়ে গেছে শহরের সরকারি পর্যটন মোটেলসহ অভিজাত আবাসিক হোটেলগুলো।

অরণ্যঘেরা ও আকাশছোঁয়া সবুজ পাহাড় এবং কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ জলধারা পরিবেষ্টিত নৈসর্গিক পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটির প্রবেশমুখ কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়ায় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক ঘেঁষেই ঠাণ্ডাছড়ি চা বাগান এবং উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রের অবস্থান। যেন সৌন্দর্য্যের লীলা ভূমি। তাল মিলিয়ে পাহাড়গুলোর আঁকাবাঁকা সৌন্দর্য গিয়ে মিশেছে আকাশে।  

এদিকে ঘাগড়া সেনানিবাসে রয়েছে বিনোদন পার্ক। এছাড়া পাশাপাশি উপজেলা কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায় রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম কাগজ কল কর্ণফুলি পেপার মিলস (কেপিএম), কাপ্তাই বাঁধ, জাতীয় উদ্যান, নেভিক্যাম্প, জুম প্যানোরমা স্পট, শিলছড়ি বনানি পর্যটন স্পট, চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার, ওয়াগ্গা চা বাগানসহ বিভিন্ন বিনোদন পার্ক, দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা।

সবুজের প্রকৃতির ভাঁজে ভাঁজে জেলাজুড়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থাপনা ও উপভোগ্য স্থান। জেলা সদরের সাপছড়িতেই রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের মাঝখানে স্থাপিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। স্মৃতিস্তম্ভটির উভয়পাশে গড়ে তোলা হয়েছে বিনোদন উদ্যান ও পার্ক।

Rangamati

এর মাঝে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইন্সটিটিউটে স্থাপিত হয়েছে উপজাতীয় জাদুঘর ও কৃত্রিম ঝর্ণাধারা। সেনানিবাসের পাশে সদর উপজেলা অফিসের সামনেই নির্মিত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দণ্ডায়মান বিশাল পাথুরে মূর্তি। মূর্তির পাদদেশে স্থাপন করা হয়েছে অবিরাম বহমান জলের ফোয়ারা। পাশাপাশি রয়েছে বিনোদন পার্ক। তার কিছু দূরে সেনানিবাসের অরণ্য রেস্টুরেন্ট।   

মূল শহরে সংযুক্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশের প্রধান বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাজবন বিহার। পাশে কাপ্তাই লেক পরিবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন রাজদ্বীপে অবস্থিত চাকমা রাজার বাড়ি। কাপ্তাই লেকঘেঁষে শহরের পূর্ব পাশে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী মনোরম ডিসি বাংলো। পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ‘পলওয়েল’ নামে জেলা পুলিশের একটি বিনোদন স্পট।

সেখানে স্থাপিত হয়েছে ‘রাঙামাটি লাভ পয়েন্ট’ নামে আরেকটি স্পট। পাশাপাশি রাঙাপানির হেচারি এলাকায় স্থাপিত হয়েছে সুখী নীলগঞ্জ উদ্যান। মূল শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দক্ষিণে রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হলিডে কমপ্লেক্স। সেখানেই দেশে-বিদেশে বিখ্যাত মনোরম ঝুলন্ত সেতুটি বিদ্যমান। শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পূর্বে বালুখালীতে গড়ে উঠেছে সরকারি কৃষি বিভাগের কৃষিফার্ম, বেসরকারি পর্যটন স্পট টুকটুক ইকোভিলেজ, পেদাটিংটিং ও চাংপাং রেস্টুরেন্ট।

এছাড়া নদীপথে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে জেলার বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নে আছে মনোরম সুবলং ঝর্ণাধারা। শহরের উত্তরে নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে স্থাপিত হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফের স্মৃতিসৌধ। পাশাপাশি বরকল, হরিণা, ঠেগামুখ সীমান্ত, মাইনি, কাচালং ও সাজেক ভেলিতেও গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন অনেক স্থাপনা। রয়েছে দর্শনীয় স্থান।

কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিপুল পর্যটকের সাড়া মিলেছে পার্বত্য পর্যটন এলাকায়। এ উপলক্ষে নবসাজে সাজানো হয়েছে পর্যটননগরীকে। পাশাপাশি শহরজুড়ে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।  

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১১-১৬ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের মোটেল ও কটেজগুলোয় সম্পূর্ণ কক্ষ বুকিং বলে জানান, ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা। পাশাপাশি শহরের অভিজাত আবাসিক হোটেলগুলোয় সপ্তাহজুড়ে বুকিং হয়ে গেছে বলে জানান, রাঙামাটি আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিজাম উদ্দিন।

Rangamati

পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য শহরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন। তিনি বলেন, কারো নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটলে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।    

পর্যটন মোটেল অ্যান্ড হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সে দুইটি মোটেল, ছয়টি কটেজ ও একটি ঝুলন্ত সেতু রয়েছে। এছাড়া নৌভ্রমণের জন্য রয়েছে বোটিং এবং সড়কপথে ভ্রমণের জন্য রয়েছে গাড়ির সার্ভিস।

এদিকে সদ্য বর্ষা শেষে শরতের মিষ্টিমাখা ও শিশির ভেজা রাঙামাটির সতেজ প্রকৃতির হাতছানি প্রতিনিয়তই নজর কাড়ছে ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমীদের। এখন পানিতে টইটুম্বুর মনোরম কাপ্তাই লেক। উজ্জীবিত দৃষ্টিকাড়া সুবলং ঝর্ণাটি। ঝর্ণার কলতান মুখরিত করেছে আশেপাশের প্রতিবেশ। আর সবুজঘেরা পাহাড়গুলো ছুঁয়েছে মেঘ। সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে অসংখ্য পাহাড়ি ঝর্ণার কলতান। মাঝ দিয়ে বইয়ে গেছে আঁকাবাঁকা কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ জলধারা। দিগন্ত জোড়া বিস্তৃত সবুজের সমারোহ। প্রকৃতিতে মিশেছে অপরূপ সাজে।

১৯৬০ সালে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর ওপর দিয়ে কাপ্তাইয়ে বাঁধ নির্মাণের ফলে সৃষ্টি হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলরাশি বিশাল কাপ্তাই লেক। যার আয়তন প্রায় সাড়ে ৭০০ বর্গকিলোমিটার।

সরকারিভাবে ইদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও বাংলোসহ সরকারি ভবন ও স্থাপনাগুলোয় আলোক ও সাজসজ্জাকরণ থাকবে। ঈদের দিন সকালে শহরের পাঁচটি স্থানে অনুষ্ঠিত হবে ঈদ জামাত।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।