পাহাড়ে গুণগত শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র
মাটিরাঙা ডিগ্রি কলেজ। পাহাড়ে গুণগত শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। সামনে বড় খেলার মাঠ। বিশাল স্থানজুড়ে সুবজ বনাঞ্চল। পাশে বিশাল লেক। কলেজ ভবন ঘেঁষে ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার। বেষ্টিত নয়নাভিরাম মাটিরাঙা ডিগ্রি কলেজ।
উপজেলা সদর থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে খাগড়াছড়ি-ঢাকা এবং খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ১০.৭৫ একর ভূমির উপর কলেজ ক্যাম্পাস।
সেনাবাহিনীর মাটিরাঙা জোনের তৎকালীন জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল শামসুল হুদা পিএসপির হাত ধরে ১৯৯২ সালে মাটিরাঙা ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মানুষের আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি কলেজটি প্রতিষ্ঠায় সেসময় উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষানুরাগীরা মুখ্য ভুমিকা পালন করে। 
মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যাবসায় শিক্ষা বিভাগ নিয়ে ১৯৯২-৯৩ শিক্ষাবর্ষে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করে কলেজটি। ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে বিএ কোর্স এবং ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে বিবিএস কোর্সে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ১৯৯৮সালে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পায় কলেজটি।
১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। গত দু’দশক ধরে হত-দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠে প্রতিষ্ঠানটি। সেই সঙ্গে উপজেলার জনগণের প্রত্যাশিত শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়।
সদ্য জাতীয়করণ হওয়া কলেজেটিতে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে। ২৮ জন শিক্ষকের পাশাপশি ১২ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। কলেজটিতে শিক্ষক সংকট না থাকলেও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পাঠদানের জন্য খণ্ডকালীন একজন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। 
নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এইচএসসি, বিএ, বিএসএস প্রোগ্রাম চালু রয়েছে কলেজটিতে। উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এসব প্রোগ্রামের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে।
উচ্চ মাধ্যমিকে ১৮টি বিষয়ে ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ১০টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। অন্যান্য বিষয় পাঠক্রমে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিবছর কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমকি পাস করে অনেকেই অর্থাভাবে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিজ্ঞানাগার বড় করার দাবিও জানায় শিক্ষার্থীরা।
মাটিরাঙা ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ হওয়ার মধ্য দিয়ে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হবে উল্লেখ করে অধ্যক্ষ মো. আবুল হোসেন বলেন, কলেজে মেধাবী শিক্ষকদের সমাগম ঘটবে। এই জনপদের শিক্ষার্থীরা কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। 
দূরের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ছাত্রবাস ও ছাত্রীনিবাস তৈরির পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরির জন্য আরো বইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান অধ্যক্ষ।
কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও মাটিরাঙা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক বলেন, ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর থেকে এক কোটি ২৫ লাখ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড থেকে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এতে একাডেমিক ভবনের সংকট দূর হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বি.এম মশিউর রহমান বলেন, কলেজটি সরকারিকরণের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের শিক্ষাচাহিদা পূরণ হবে। তথ্য-প্রযুক্তি সম্পন্ন মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’ স্থাপন করা হয়েছে।
মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এএম/পিআর