বিশ্বের সর্ববৃহৎ পূজামণ্ডপ এবার বাগেরহাটে
বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর শিকদার বাড়িতে ৬০১টি দেব-দেবীর সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত পূজামণ্ডপ নাম ছড়াতে শুরু করেছে। এর আয়োজক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লিটন শিকদার এটিকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শারদীয় পূজামণ্ডপ হিসেবে দাবি করছেন।
সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে এই মণ্ডপে একটানা ৫ মাস ধরে ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীরা নিপুণ হাতে ৬০১টি দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরি করেছেন। বাঁশ ও খড়কুটোর ওপর মাটির প্রলেপ দিয়ে প্রতিমা ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীদের তৈরি করা শত-শত দেব-দেবীর প্রতিমায় দিনরাত ধরে এখন চলছে রং করার কাজ।
শারদীয় দূর্গা পূজায় দেশ বিদেশের সনাতন হিন্দুদের ধর্মীয় মূ্ল্যবোধে বেশি করে আকৃষ্ট করতে নিজ বাড়িতে গত কয়েক বছর ধরে জাকজমকপূর্ণভাবে এ উৎসবের আয়োজন করে আসছেন ব্যবসায়ী লিটন সরকার।
গত বছর নৌ ও পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান প্রধান অতিথি হিসেবে বাগেরহাটে এসে ব্যক্তি উদ্যোগে আয়োজিত এ পূজামণ্ডপের উদ্ধোধন করেন। ওই সময় এই মণ্ডপ এশিয়ার সর্বোবৃহৎ পূজামণ্ডপ হিসেবে পরিচিতি পায়।
রোববার সকালে সরেজমিনে বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের শিকদার বাড়ির বিশাল শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা ভাস্কররা নিপুণ হাতে রং-তুলির আচঁড়ে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলছেন দশভূজা দেবী দুর্গাসহ শত-শত দেব-দেবীর প্রতিমূর্তি।
পূজা মণ্ডপের প্রধান প্রতিমা ভাস্কর অচিন্ত মণ্ডল বলেন, গত বৈশাখ মাস থেকে ১৪ ভাস্কর ও মৃৎশিল্পী ও শ্রমিকদের নিয়ে একটানা ৫ মাস কাজ করে দেব-দেবীর ৬০১টি প্রতিমার নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এখন রাতদিন ২৪ ঘণ্টা রং তুলির কাজ চলছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা এবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দর্শনার্থীদের আকর্ষণের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এবার এত প্রতিমা তৈরি করতে পেরে নিজেকেই ধন্য মনে করছি।
এ মণ্ডপের আয়োজক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লিটন শিকদার বলেন, কয়েক বছর ধরেই দেশ বিদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দর্শনার্থীদের মন জয় করতে এই পূজামণ্ডপে প্রতিমার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। গত বছর এই মণ্ডপে ৪৫১টি দেব-দেবীর প্রতিমা নিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা হয়েছিল। এবার ৬০১টি প্রতিমা নিয়ে পূজামণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমার জানা মতে শুধু দেশই নয়, এটি প্রতিমার সংখ্যার দিয়ে বিশ্বের সব থেকে বড় শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ।
ধর্ম যার-যার, উৎসব সবার জানিয়ে এই ব্যবসায়ী তার বাড়িতে এবারো শারদীয় দুর্গোৎসবে শামিল হতে দেশ বিদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও দর্শনার্থীদের আমন্ত্রণ জানান।
মংলা-ঢাকা মহাসড়কের পাশের বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের শিকদার বাড়ির দুর্গাপূজা মণ্ডপে প্রতি বছর শারদীয় উৎসবে দেশ বিদেশের লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।
আগামী ৬ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এই উৎসবকে ঘিরে বাগেরহাট সদর উপজেলার শিকদার বাড়ি, নিমতলা ও কাড়াপাড়াসহ বিশাল মণ্ডপগুলো ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় দূর্গা প্রতিমা নির্মাণের কাজ এখন শেষের পথে।
এদিকে, সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে, এবছর দেবী দুর্গা মহালয়ে আসছেন ঘোড়ায় চড়ে, আর যাবেনও ঘোড়ায় চড়ে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় জানান, দুর্গা প্রতিমা নির্মাণকে ঘিরে ইতোমধ্যেই এ জেলার সবকটি উপজেলায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এবার বাগেরহাট জেলার বাগেরহাট সদর, কচুয়া, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, মংলা, রামপাল, ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও চিতলমারী উপজেলায় ৫শ ৮৩টি মণ্ডপে দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা প্রতিটি দুর্গা প্রতিমা মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বিক সহায়তা করছেন।
এফএ/এবিএস