ঈদযাত্রা: নিরাপদ ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে অনেকের পছন্দ ট্রেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৭ এএম, ১৪ মার্চ ২০২৬
পরিবারের সদস্যদের আগেভাগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন অনেকে, ছবি: জাগো নিউজ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকেই। তবে অফিস খোলা থাকায় অনেক চাকরিজীবী নিজে পরে গেলেও আগেই পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। নিরাপদ আর স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে ট্রেনই বেছে নিচ্ছেন তারা।

এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) থেকে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত টানা ছয় দিনের সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে শবে কদর ১৭ মার্চ হওয়ায় নির্বাহী আদেশে ১৮ মার্চ এবং ঈদের দিন ২১ মার্চ ও তার আগে পরের দিন মিলিয়ে মোট সাত দিনের ছুটি উপভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

ঈদযাত্রা: নিরাপদ ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে অনেকের পছন্দ ট্রেন

তবে এর মধ্যেও ১৫ ও ১৬ মার্চ অফিস খোলা থাকবে। এ কারণে অনেক চাকরিজীবী নিজে পরে গেলেও পরিবারের সদস্যদের আগেভাগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তাদের ধারণা, ১৬ মার্চ রাত থেকেই সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীচাপ হঠাৎ বেড়ে যাবে এবং ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই ভিড় অব্যাহত থাকবে।

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কথা হয় একটি সরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাহবুবের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখনও দুই দিন অফিস আছে। আমি হয়তো ঈদের আগের দিন যাবো। তবে ১৬ তারিখ অফিসের শেষ কর্মদিবস হওয়ায় ওইদিন রাত থেকেই ব্যাপক ভিড় দেখা যেতে পারে।

ঈদযাত্রা: নিরাপদ ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে অনেকের পছন্দ ট্রেন

তিনি আরও বলেন, সড়কপথে শুরু হবে যানজট, ট্রেনে আসন পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে। একই অবস্থা হতে পারে লঞ্চেও। আমার অনেক সহকর্মী এমন আশঙ্কা করছেন। তাই বাড়তি চাপ নিতে চাই না, পরিবারের সদস্যদের আজই ট্রেনে করে গ্রামে পাঠাতে কমলাপুরে এসেছি।

মাহবুব জানান, তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে। সাধারণ সময়ে বাসে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টায় পৌঁছানো গেলেও ঈদের সময় আট ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এ কারণেই তিনি ট্রেনে পরিবারকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত ঈদের অভিজ্ঞতা থেকে এবার আগেভাগেই পরিবারকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে তারা স্বস্তিতে যেতে পারবে।

ঈদযাত্রা: নিরাপদ ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে অনেকের পছন্দ ট্রেন

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আশরাফ উদ্দিন। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমার স্ত্রী বাড়তি রান্না করে ফ্রিজে রেখে দিয়েছেন। এগুলো দিয়েই ইফতার ও সেহরি চলবে। আমার ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছি।

আরও পড়ুন
ট্রেনে ঈদযাত্রা: ভোগান্তি এড়াতে আগেই বাড়ি ফিরছেন অনেকে

তিনি আরও বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি পাবনায়। আমি যেকোনোভাবে পরে চলে যেতে পারবো লোকাল বা আন্তঃনগর বাসে। কিন্তু পুরো পরিবার নিয়ে ঈদের আগে যাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে যায়। তাই আগেই পাঠিয়ে দিচ্ছি, পরে অফিস শেষে সময় করে আমি যাব।

ঈদযাত্রা: নিরাপদ ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে অনেকের পছন্দ ট্রেন

এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা আহমেদুল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। শনিবার সকালে তিনি কমলাপুর স্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

তিনি বলেন, আমাদের অফিসে এখনও চার দিন কাজ বাকি আছে। তাই পরিবারকে আগেই পাঠিয়ে দিচ্ছি, যাতে বাড়তি ভোগান্তি এড়ানো যায়।

আহমেদুল বলেন, আমরা সাধারণত ট্রেনে যাতায়াত করি। কিন্তু ঈদের আগে আসন পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এখন পাঠিয়ে দিলে তারা সহজেই সিট পাবে এবং স্বস্তিতে বাড়ি পৌঁছাতে পারবে।

ঈদযাত্রা: নিরাপদ ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে অনেকের পছন্দ ট্রেন

রাজধানীর বিভিন্ন রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, এখন থেকেই যাত্রীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৬ মার্চ রাত থেকে ঈদযাত্রার চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে। তাই অনেকে ভিড় ও ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

ইএআর/এসএনআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।