ঝিনাইদহে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে স্কুলের পাঠদান


প্রকাশিত: ০৩:২৩ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬

বিদ্যালয়ে নেই কোনো অফিস, নেই কোনো চেয়ার টেবিল। লম্বা একটি টিনশেডের মাঝখান দিয়ে বাঁশের রেলিং লাগিয়ে তিনটি শ্রেণিকক্ষ ভাগ করা আছে। আর একজন শিক্ষিকা একাই তিনটি ক্লাসে শিক্ষা দেয়ায় ব্যস্ত।  

জানা গেছে, বিদ্যালয়টি সরকারি হলেও দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই একজন শিক্ষিকা আর ১৫২ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। হুমকির মুখে পড়েছে ১৫২ ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষা ব্যবস্থা।

সরেজমিনে গিয়ে ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর উপজেলার সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর চারজন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। প্রধান শিক্ষিকা সাইদা খাতুন, সহকারী শিক্ষিকা পাপিয়া, নাজমা ও শারমিন নাহারকে। কিন্তু বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলেও শিক্ষকরা দীর্ঘদিন কোনো বেতন না পাওয়ায় নিয়মিত স্কুলে আসেন না। যে কারণে এ স্কুলে অধ্যয়নরত ১৫২ জন ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়া অনিশ্চিত ও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আজগর আলী জানায়, আমাদের ক্লাস ঠিকমতো হয় না। একজন আপা নিয়মিত ক্লাস নেয়। অন্য আপারা ক্লাসে আসে না। আমি এ বছর এই স্কুলে পড়ে অন্য কোথায় চলে যাব। তার মতো তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী একই অভিযোগ করে।

অভিবাবকরা বলেন, গ্রামে স্কুল হওয়ায় এখানেই তারা তাদের ছেলে মেয়েদের ভর্তি করেছেন। কিন্তু স্কুলে একজন শিক্ষিকা ছাড়া  অন্য শিক্ষিকারা কেউ ঠিক মতো স্কুলে না আসায় তাদের সন্তানরা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে।

সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদা খাতুন বলেন, ২০০৭ সালে থেকে বেতন পাইনা। তবে স্কুলটি জাতীয়করণ হলেও শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না। আর শিক্ষকদের মাঝে মাঝে ছুটি দিতে হয়। এজন্য সবাই উপস্থিত থাকতে পারে না।    

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান জানান, বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের গেজেট হয়েছে কিন্তু শিক্ষকদের গেজেট হয়নি বলে তারা বেতন পাচ্ছে না।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।