বনরূপা কাঁচাবাজার নিয়ে রশি টানাটানি
রাঙামাটি শহরের প্রধান বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র বনরুপা কাঁচাবাজারটি বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মার্কেটের মালিক শাহ নেওয়াজ চৌধুরী ফারুক।
বাজারটি দখলকে ঘিরে মুখোমুখী অবস্থানে ভাড়াটিয়া এবং মালিকপক্ষ। উভয়ে অবতীর্ণ সংঘাতের দিকে। কিন্তু এতে মালিকপক্ষের পিছুটান পড়ছে বলে জানা গেছে।
যোগাযোগ করা হলে মালিক শাহ নেওয়াজ চৌধুরী ফারুক অভিযোগ করে বলেন, বহিরাগত কতিপয় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় কয়েকজন দুষ্টু প্রকৃতির ভাড়াটিয়া দোকানদার আমার ওই কাঁচাবাজারটি বেদখলে নিতে মরিয়া।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দোকান ভাড়া পরিশোধও বন্ধ করে দিয়েছে ভাড়াটিয়ারা। প্রভাবশালীদের অযাচিত হস্তক্ষেপে মার্কেটটির নির্মাণ কাজও বন্ধ রাখতে হয়েছে আমার। অথচ আমাকে ভাড়া দেয়া বন্ধ করলেও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দাপটের সঙ্গে অবাধে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন ভাড়াটিয়ারা। এসবের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ধরনা দিয়েও সুরাহা পাচ্ছেন না বলে জানান মালিক।
ফারুক অভিযোগ করে বলেন, একজন পৌর কাউন্সিলরসহ কতিপয় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতার দাপট ও আধিপত্য বিস্তার করে তার ব্যক্তি মালিকানার বাজারটি দখলে নিতে অপচেষ্টায় লিপ্ত। এজন্য হাত করেছেন বাজারের কয়েকজন ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীকে।
উল্লেখ্য, প্রায় ২৫-২৬ বছর আগে বনরূপা চৌমূহনী সংলগ্ন এলাকায় মূল শহরের অন্যতম কাঁচাবাজার ‘ফারুক মার্কেট’। বাজারটি ব্যক্তি মালিকানাধীন হলেও এর সুফল ভোগ করে আসছেন স্থানীয়, অস্থানীয় অসংখ্য লোকজন।
জানা যায়, ওই এলাকায় অনেক বছর আগে বর্তমান চাকমা সার্কেল চিফ রাজা দেবাশীষ রায়ের বাবা স্বর্গীয় ত্রিদিব রায়ের কাছে ১০ শতক জায়গা কেনেন কাঁচাবাজারটির মালিক শাহ নেওয়াজ চৌধুরী ফারুকের বাবা মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী। পরে সেখানে নিজের নামে কাঁচাবাজারটি স্থাপন করেন ফারুক। বাজারে সর্বশেষ ভাড়াটিয়া দোকানদারের সংখ্যা প্রায় ৪০-৪৫ জন বলে জানান তিনি।
ভাড়াটিয়াদের পক্ষে ফারুক মার্কেট (কাঁচাবাজার) ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দাবিদার মাছ ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ বলেন, তাদেরকে না জানিয়ে মালিক মার্কেট ভাঙাতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। যেভাবে কাজ করার কথা ছিল সেভাবে না করার কারণে মালিক এবং ভাড়াটিয়াদের মধ্যে বনাবনি হয়নি। ফলে এখন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
সুশীল প্রসাদ চাকমা/এমএএস/পিআর