বলুহর বাওড়ই আমার জীবন মরণ


প্রকাশিত: ০৩:২৬ এএম, ০৩ অক্টোবর ২০১৬

`বাওড় আমাকে দিয়েছে অর্থ ও সম্মান। আমার ৭০ বছরের প্রায় সবকটি দিনই আমি এই ২.৫৯ কিলোমিটার জমির বুক চিড়ে উঠে আসা বাওড়ের জল গায়ে মেখেছি। এ বাওড় আমার মায়ের সমান` বৈঠা বাইতে বাইতে কথাগুলো বলে চলেন অমরেশ মাঝি।

তিনি আরো বলেন, আমি পড়ালেখা করিনি কিন্তু আমার জীবনে স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর বাওড়। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বাওড়ে জাল পেতে ছোট ছোট মাছ ধরে বিক্রি করেন। বিকেলে নৌকা বেয়ে যা আয় করি তা দিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলে যায়।

Jhenidah

তিনি আরো বলেন, নানান মানুষের প্রেম বিরহের সাক্ষী আমি, আমার নৌকা আর এই বলুহর বাওড়। একা এসেছেন অনেকে, স্মৃতি বিজড়িত স্থান ঘুরে সামান্য প্রশান্তি পেতে, শুনিয়েছেন কষ্টের কথা। বলুহর প্রোজেক্ট ঘাট থেকে নৌকা বেয়ে বাওড়ের পশ্চিম তীর কাগমারি ঘাটে যাত্রী পারাপার করেন।

যাত্রী পারাপার থেকে বেশি আয় হয় না। প্রতিদিন নৌকা বেয়ে দেড়’শ থেকে দুই’শ টাকা আয় হয়। আর উৎসবের দিনে আয় হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়। তবে বেড়াতে আসা লোকজন ঘণ্টা চুক্তিতে বাওড় ঘোরে। এতে ভালো পয়সা পাওয়া যায়।

Bouluhor

অমরেশ মাঝি বলেন, বলুহর বাওড় টিকে থাকুক হাজার বছর, থাকুক দখলমুক্ত ও দূষণমূক্ত। তাহলে বাচঁবে হালদা সম্প্রদায়ের মানুষ। যান্ত্রিক জীবনে ব্যস্তময় মানুষেরাও পাবে পরম প্রশান্তি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরপুর বলুহর বাওড় অঞ্চলকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আরো সৌন্দর্য মণ্ডিত করে পর্যটন অঞ্চলে পরিণত করার দাবি করেন।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।