নেবেন আলতা-চুড়ি-মালা-সোনো-পাউডার


প্রকাশিত: ০৫:৫৮ এএম, ০৫ অক্টোবর ২০১৬

`এই শহরে আমি যে এক নতুন ফেরিওয়ালা
হরেক রকম সওদা নিয়ে ঘুরি সারাবেলা, ফেরিওয়ালা।
আয়না আছে চিরুনি আছে, আছে কাঁচের চুড়ি
সাথে পাউডার আলতা সাবান মিলবে না তার জুড়ি
আরো আছে চুলের ফিতা রঙ্গিন মতির মালা,
ফেরিওয়ালা, ও আমি ফেরিওয়ালা`
এভাবেই নিজের মনে গান গেয়ে গ্রামের পর গ্রাম ফেরি করে চলে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ভগবান নগর গ্রামের হায়দার হোসেন (৪৭)।

হায়দার হোসেনের স্ত্রী জানান, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে আমাদের ৫ জনের সংসার। তিনি সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কোনো উপায় না পেয়ে সে এক পা দিয়ে ভ্যান চালিয়ে আবার ফেরির ব্যবসা শুরু করেন। এ ব্যবসা থেকে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে চলে আমাদের সংসার। বর্তমানে বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া ৫ শতাংশ জমির উপর একটি ছাপড়া ঘর তৈরি করে বসবাস করছি।

Jhenidah

হায়দার হোসেন জানান, আমার জীবন অন্য সব ফেরিওয়ালাদের মতো স্বাভাবিক নয়। এক পা নেই। দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত ফেরিওয়ালা পেশার সঙ্গে জড়িত। ১০ বছর আগে রোগের কারণে এক পা কেটে ফেলতে হয়। ভিক্ষাবৃত্তি বেছে না নিয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, এক পা দিয়ে ভ্যান চালিয়ে ফেরি করতে অনেক কষ্ট হয়। বেশি দূর যেতে পারি না। এজন্য উপার্জনও অনেক কম হয়।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, যদি একটি বিদ্যুৎচালিত ভ্যান কিনতে পারতাম তাহলে আমার ব্যবসা আরো ভালভাবে চলতো। বিদ্যুৎচালিত ভ্যান তৈরি করতে সর্বনিম্ন ৪০ হাজার টাকা প্রয়োজন। তাই সমাজের বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ একটি বিদ্যুৎচালিত ভ্যানের ব্যবস্থা করতে সাহায্য করলে আমার পরিবারটা বেঁচে য়ায়।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।