চেঙ্গী-কাশবন পাহাড়ের প্রথম বেসরকারি হসপিটাল
‘কম মূল্যে ভালো সেবা’ এ নীতিকে সামনে রেখে ২০০৭ সালের গোড়ার দিকে খাগড়াছড়িতে যাত্রা শুরু করে তিন পার্বত্য জেলার প্রথম বেসরকারি হাসপাতাল ‘চেঙ্গী-কাশঁবন হসপিটাল অ্যান্ড মেটারনিটি (প্রা:) লিমিটেড’।
প্রথম দিকে ছোট্ট পরিসরে হসপিটালটির কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১০ সালের শেষ দিকে বড় পরিসরে কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
এখনো ১৫ বেড দিয়েই চলছে বেসরকারি এ হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। তবে এ হাসপাতালটিতে চিকিৎসা প্রার্থীদের চাহিদা বিবেচনা করে আরো ১৫ বেড বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. দিব্য শেখর চাকমা।20161005220257.jpg)
সাদা ধবধবে টাইলসে চকচক করছে হসপিটালের ফ্লোর। কোথাও যেন এক কণা বালিও নেই। চিকিৎসার পাশাপাশি ডাক্তারদের আচরণও খুব আন্তরিক। এভাবেই বললেন পাশের জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থেকে নিজের স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য আসা জাহাঙ্গীর মিয়া। এ হাসপাতালের সেবায় খুব খুশি ভাই-বোন ছড়ার লিটন মার্মা বলেন, এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে মনে হয়নি হাসপাতালে আছি।
সরকারি হাসপাতাল আর এখানে চিকিৎসার মান একই হলেও সরকারি হাসপাতালে ভালো পরিবেশ নেই বলে জানালেন মাটিরাঙ্গার পূর্ব খেদাছড়া থেকে আসা মো. জাহাঙ্গীর আলম। কিছু বাড়তি টাকা খরচ হলেও সময় মতো ডাক্তার ও সেবা পাওয়া যায় এমন মন্তব্য তার।
শুরু থেকেই গরিব ও দরিদ্র রোগীদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে জানিয়ে হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আকবর হোসেন বলেন, গরিব রোগীদের জন্য একটি স্থায়ী ‘দরিদ্র তহবিল’ গঠনের বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনাধীন।
সার্বক্ষণিক তিনজন চিকিৎসক ছাড়াও আরো ৮/১০ জন চিকিৎসক সেবা দিয়ে আসছেন এ হসপিটালে। গাইনী, অর্থোপেডিক্স ও জেনারেল সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেয়ার কথা জানিয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. দিব্য শেখর চাকমা বলেন, প্রসূতির সিজারসহ ছোট ছোট অপারেশন করা যায় জেলা সদরের একমাত্র বেসরকারি এ হাসপাতালটিতে।-l20161005220251.jpg)
তিনি বলেন, এ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হাসপাতালের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ আরো উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ক্রয় করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান ডা. দিব্য শেখর চাকমা।
সরকারি নিয়ম-নীতির বাইরে চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার মতো কোনো অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা: নীশিত নন্দী মজুমদার বলেন, খাগড়াছড়ির একমাত্র বেসরকারি হাসপাতালটির চিকিৎসার মান ভালো। হাসপাতালটির পরিবেশও ভালো।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া একটি ভালো মানের প্রাইভেট হাসপাতাল গড়ে তোলা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাড়াতে হবে। তবেই চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হবে। কোনো অবস্থাতেই সেবার নামে প্রহসন কারো কাম্য হতে পারেনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খাগড়াছড়ির একমাত্র বেসরকারি হাসপাতালটির সেবার মান নিয়ে কারো কোনো ধরনের অবিযোগ না থাকলেও জনগণের আর্থিক সঙ্গতির কথা বিবেচনা করেই সরকারি হাসপাতালে সেবার মান বাড়ানোসহ ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালটি চালুর দাবি জেলার সচেতন মহলের।
এমএএস/আরআইপি