চার বছরের মেয়েকে বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেয়ার অভিযোগ


প্রকাশিত: ০৯:০৬ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০১৬

বরগুনার পাথরঘাটায় এক কন্যা শিশুকে বস্তাবন্দি করে খালে ফেলে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের দক্ষিণ জ্ঞানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও প্রত্যক্ষ কোনো অভিযোগকারী না থাকায় ঘটনাটি চাপা পড়ে যায়। কিন্তু শিশুটিকে উদ্ধার করা শিশু-কিশোরদের কানাকানিতে বুধবার এ ঘটনার জানাজানি হয়। ইতোমধ্যে এ ঘটনার তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ্ঞানপাড়া গ্রামের রিকশাচালক আশরাফ আলী (৪৫) চার চারটি কন্য সন্তানের বাবা। তার স্ত্রী পলি বেগম (৩৫) একজন গৃহিণী। তাদের বড় মেয়ে নাদিরা (৭) জ্ঞানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে, মেজ মেয়ে হ্যাপি (৬) প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। সেজ মেয়ে হাফসা (৪) এখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি এবং ছোট মেয়ে সাদিয়া (২) সবে হাঁটতে শিখেছে।

গত শুক্রবার দুপুরে গ্রামের খালে গোসল করছিল স্থানীয় মিরাজ (১৩) ও তানভীরসহ (১৪) আরো কয়েকজন শিশু-কিশোর। এ সময় তাদের পাশ দিয়ে একটি বস্তা নড়াচড়া করতে করতে ভেসে যেতে দেখে তারা। তারা বস্তাটি টেনে তীরে নিয়ে এসে মুখ খুললে বস্তার ভেতরে প্রায় অচেতন অবস্থায় ছোট্ট শিশু হাফসাকে দেখতে পায়। বস্তার মুখ খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঝোপের আড়াল থেকে তাদের কাছে আসে হাফসার মা পলি বেগম। এ সময় তিনি তানভীর ও মিরাজসহ অপর শিশু-কিশোরকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হাফসাকে বাড়ি নিয়ে যান।

hafsa-barguna
উদ্ধারকারী তানভীর জাগো নিউজকে বলেন, আমরা বস্তাটা তীরে এনে মুখ খোলার পর হাফসার মা আমাদের লাঠি দিয়ে মারধর করে হাফসাকে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জ্ঞানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রাণী অধিকারী বলেন, হাফসা এখনো স্কুলে ভর্তি না হলেও বাড়ির পাশে স্কুল হওয়ায় প্রায়ই সে তার বড় দুই বোনের সঙ্গে স্কুলে আসতো। হাফসার ঘটনা শোনার পর তিনি হাফসাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।

হাফসাকে বস্তাবন্দি করে ফেলে দেয়ার ঘটনার তিনি সত্যতা পেয়েছেন বলে জানান।

পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনিরা ইয়াসমিন খুশী বলেন, শিশুটির বাবা-মা বিষয়টি অস্বীকার করলেও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী কিশোরদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

hafsa-barguna
স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বলেন, পলি বেগমের সঙ্গে তার ভাসুর ইসমাইল হোসেন (৫৫) এবং নূরুল হকের (৬০) জমি নিয়ে বিরোধও রয়েছে। তাই পলি বেগম শিশু হাফসাকে হত্যা করে একই সঙ্গে তাদেরও ফাঁসাতে চেয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাফসার মা পলি বেগমে বলেন, হাফসা যাতে আর দুষ্টুমি না করে সে জন্য তাকে ভয় দেখানো হয়েছে।

তবে তিনি হাফসাকে বস্তায় ভরার কথা অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক পিপিএম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।