শিশুদের জীবন হাতে নিয়ে চলছে ক্লাস


প্রকাশিত: ০৬:৩২ এএম, ০৬ অক্টোবর ২০১৬

`১৯৭২ সালে এলাকার কিছু শিক্ষানুরাগী শিশুদের পড়ালেখার কথা চিন্তা করে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে ১৩৯ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে।

বিদ্যালয়টি সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফল করছে। প্রতি বছরই শতভাগ পাসের পাশাপাশি ২/৩ জন করে ছেলে-মেয়ে বৃত্তির তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে আমাদের পাঠদান। এক রকম বাধ্য হয়েই ক্লাস ঠিকই নিচ্ছি কিন্তু যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে।`

এই আশঙ্কায় এভাবেই নিজের স্কুলের বর্তমান অবস্থার কথা জানালেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমল কান্ত মজুমদার।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস চলছে। তিনটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। আর একটি কক্ষে দাফতরিক কাজ করা হয়।

অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, তারা ৫ জন শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান করে যাচ্ছেন। ভবনটি এতোটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে শিশুদের এই ভবনের নিচে বসিয়ে ক্লাস নিতে তারা ভয় পাচ্ছেন। বিমগুলোতে এতোটাই ফাঁটল ধরেছে যে, সেগুলো যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে।

এই আশঙ্কার পরও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই খুঁটির নিচে বসে ক্লাস করছে কোমলমতি শিশুরা। ক্লাস নেন আর ফাঁকে ফাঁকে উপরের দিকে চেয়ে দেখছেন সব ঠিকঠাক আছে কিনা, না ভেঙে পড়ছে মাথার উপর।

তারা আরো জানান, দীর্ঘদিন টিনের চালায় প্রতিষ্ঠানটি চলে আসলেও ১৯৯৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর একটি ভবন নির্মাণ করে দেন। কিন্তু গত ৩ বছর হলো ভবনের বিমগুলোতে ফাঁটল ধরেছে। ছাদের প্লাস্টারগুলো ধসে পড়ছে। গোটা ছাদ নষ্ট হয়ে গেছে।

একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ ভেদ করে পানি পড়ে। নিচে সকালে দ্বিতীয় আর দুপুরে চতুর্থ শ্রেণীর ক্লাস চলে। তারা শিশুদের জীবন হাতে নিয়ে ক্লাস চালাচ্ছেন। বিদ্যালয় ভবনে আর কোনো শ্রেণিকক্ষ না থাকায় এই ঝুঁকির মধ্যে ক্লাস চালাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

শিক্ষক হারুন-অর রশীদ জানান, বেশ কয়েকবার তারা লিখিতভাবে বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেছেন। ২ বছর হতে চললো এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীরা এসে পরীক্ষা করে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সালমা খাতুন জানান, তারা ইতোমধ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন জরুরি বলে অধিদফতরে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। যার মধ্যে চাপালী এক নম্বরে রয়েছে।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।