শটসার্কিট থেকে আগুন লাগেনি বেনাপোল বন্দরে


প্রকাশিত: ০৬:৪৪ এএম, ০৬ অক্টোবর ২০১৬

বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে বেনাপোল বন্দরের শেডে আগুন লাগেনি। তবে নাশকতার বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়নি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি। তারা আগুন লাগার জন্য প্রকারান্তরে বন্দর কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনাকে দুষছেন।

তদন্ত কমিটি আগুন লাগার সঠিক কারণ নির্ণয় করতে পারেনি। তবে জানিয়েছে, প্রয়োজনে আরো তদন্ত করা হবে।

গত ২ অক্টোবর ভোরে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের ২৩ নম্বর শেডে আগুন লাগে। এতে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রায় সাত ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এই ঘটনার পর সরকারি পৃথক সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি বুধবার বিকেলে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট যাত্রী টারমিনাল মিলনায়তনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে কমিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি।

মতবিনিময়কালে তদন্ত কমিটির প্রধান নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সাফায়েত হোসেন অগ্নিকাণ্ডের কারণ সুনির্দিষ্টভাবে বলেননি। তবে তিনি বলেন, শটসার্কিট থেকে যে আগুনের সূত্রপাত হয়নি, প্রাথমিকভাবে তা অনেকটাই নিশ্চিত। সিগারেটের আগুন বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, কেমিকেল রাখার জন্য আলাদা শেড থাকার পরও কেনো এই শেডে তুলা ও অন্যান্য মালের সঙ্গে কেমিকেল রাখা হলো সেটাও দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরো তদন্ত করতে হবে।

নাশকতামূলকভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে কি না তা স্পষ্ট না করলেও তদন্ত কমিটি এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, ১৩৭টি পণ্য চালান আগুনে পুড়ে যাওয়ার ব্যাপারে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। এতে ক্ষতির পরিমাণ ১৮ কোটি ৫০ লাখ ৬৪ হাজার ৫২৬ টাকা। এছাড়া আরো কোনো পণ্য পুড়েছে কি-না তা এখনো অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, কেপিআই জোনের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু করার সুপারিশ করা হবে তদন্ত রিপোর্টে। এছাড়া বন্দরে গেটের সংখ্যা কমানো ও পেছনের সড়কটি চার লেনে রূপান্তরিত করার ব্যাপারেও রিপোর্টে সুপারিশ করা হবে বলে জানান কমিটির প্রধান।

এছাড়া বীমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণের বিষয়টি দেখবে বলেও তিনি জানান।

মতবিনিময়কালে অন্যদের মধ্যে তদন্ত কমিটির সদস্য স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব হাবিবুর রহমান, যশোর জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুস সালাম, ফায়ার সার্ভিস যশোরের সহকারী পরিচালক পরিমল চন্দ্র কুন্ডু ও ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বেনাপোল স্থলবন্দর ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ১৭ জন সদস্য পুড়ে যাওয়া শেডে এখনো দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন বেনাপোল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার কাওছার আলী। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিমও তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের এ টিম কাজ করবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পরিমল চন্দ্র কুন্ডু।

জামাল হোসেন/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।