পাহাড়পুর গণহত্যা দিবস আজ


প্রকাশিত: ০৫:৩৪ এএম, ০৭ অক্টোবর ২০১৬

আজ ৭ অক্টোবর। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিন ঠিক দুপুরের সময় দেশীয় রাজাকারদের সহযোগীতায় প্রায় ২৫-৩০ জনের পাক-আর্মির একটি দল উপজেলার জামালগঞ্জের আশপাশের গ্রামে প্রবেশ করে এবং বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।

এরপর তারা পাহাড়পুর গ্রামে পৌঁছে। পাক-আর্মিদের দেখে গ্রামের নিরীহ মানুষজন পালানোর চেষ্টা করলে গ্রামবাসীদের ওপর ব্রাস ফায়ার করা হয়। শুরু হয় মেয়েদের উপর অমানবিক ও পাশবিক অত্যাচার।

জানা যায়, নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর পাক-আর্মিদের অমানবিক ও নির্মম অত্যাচারের খবর মুক্তিযোদ্ধারা জানতে পারেন। এরপর অধিনায়ক একেএম ফজলুল করিমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা দু’ভাগে ভাগ হয়ে পাক-আর্মিদের ওপর আক্রমণ করে। মুক্তিযোদ্ধারা সংখ্যায় ছিলেন প্রায় ৩২ জন। প্রথম গ্রুপটি ফায়ারিং করে অগ্রসর হলে পাক-আর্মিরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। একটি সময় পাকবাহিনী পরাজিত হয়।

কিন্তু তাদের সঙ্গে থাকা সিগনাল কোরের সদস্যরা পালিয়ে জয়পুটহাট জেলার ডিভিশনাল হেড কোয়াটারে খবর পৌঁছায় যে, পাকবাহিনী পরাজিত হয়েছে। কিছুক্ষণ পর প্রায় ৩শ জনের একটি পাকবাহিনীর দল আধুনিক অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুণরায় পাহাড়পুর গ্রামে আসে।

এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বর্তমান পাহাড়পুর রেস্ট হাউসের সামনে শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ। পাকবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে আসছে, লড়াই করছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে মরছে, তবুও তারা পিছু হটছে না। আসলে তারা সংখ্যায় এতো বেশি ছিলো যে মুক্তিযোদ্ধাদের তা জানা ছিল না। পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রায় ছয় ঘণ্টা যুদ্ধ হয়।

একপর্যায়ে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধাদের পেছন থেকে ঘেরাও করে পাকবাহিনী। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিও শেষ হয়ে আসে। পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন একেএম ফজলুল করিম। শহীদ হন আফজাল, শরীফ, ফরিদ, আসির ও গণি।

যুদ্ধের এক সপ্তাহ পর ফজলুল করিমকে জয়পুরহাট জেলার কুঠিবাড়ী ঘাটে পাকবাহিনী বেয়নেট চার্জ করে নদীতে নিক্ষেপ করে। তবে তার মরদেহের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা চারজনকে পাহাড়পুরে এবং আফজাল হোসেনকে উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামের বাড়িতে সমাধিস্থ করা হয়। উত্তরবঙ্গে গেরিলাদের সঙ্গে পাকবাহিনীর এতো বড় যুদ্ধ কোথাও সংঘটিত হয়নি। এই যুদ্ধে ১১৫ জন পাকসেনা ও ২০ রাজাকার মারা যান।

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় সেখানে স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের ‘একুশে পরিষদ নওগাঁ’ সহযোগিতায় এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত, শান্তি কামনায় কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হবে।

আব্বাস আলী/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।