গাজীপুরে ৮ ঘণ্টার উদ্বেগ উৎকণ্ঠার অবসান


প্রকাশিত: ০৩:৩৫ পিএম, ০৮ অক্টোবর ২০১৬

গাজীপুরে একই দিনে এক কিলোমিটার দূরত্বে দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযানকে কেন্দ্র করে শনিবার গাজীপুর শহর কার্যত থমকে গিয়েছিল। সারাদিন সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল উদ্বেগ উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের ছাপ।

সকাল ৮টার দিকে হাড়িনাল লেবুবাগান এলাকার ব্যবসায়ী আতাউর রহমানের বাড়ি এবং একই দিন সকাল ১০টার দিকে ওই আস্তানার এক কিলোমিটার পূর্ব দিকে নোয়াগাঁও পাতারটেক আবাসিক এলাকার সৌদি প্রবাসী সোলাইমান মিয়ার দোতলা বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের খবর জানতে পেরে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে যেমন কৌতূহলের সৃষ্টি হয়, তেমনি অভিযানের খবর দেখতে অনেকে টেলিভিশন সেটের সামনে বসে থাকেন। ওই দুটি এলাকার আশপাশের শত শত উৎসুক মানুষ জঙ্গি আস্তানা দুটির আশপাশে ভিড় করে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সফল অভিযান শেষ হলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের ৮ ঘণ্টার উদ্বেগ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটে।

সকাল ১০টার দিকে হাড়িনাল লেবুবাগান এলাকায় র‌্যাব-১ এর সদস্যরা অভিযান শেষ করে। সেখানে রাশেদ ও তৌহিদুল ইসলাম নামে দুই জঙ্গি নিহত হয়।

এ অভিযান শেষ না হতেই ওই এলাকার কাছে নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় আরেকটি জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানের খবরে স্থানীয় লোকজন স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে র‌্যাব, সোয়াত, জেলা পুলিশ, পুলিশের এন্ট্রি টেরোরিজম ইউনিট, ফায়ার সার্ভিসসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করে।

বিশেষ করে সকাল ১০টার পর গাজীপুর শহর ও আশপাশ এলাকায় বিদুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হলে এলাকায় এক প্রকার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পাতারটেকের জঙ্গিরা সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে এমন খবরের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িক বন্ধ করে দেয়।

পাতারটেক আবাসিক এলাকার দোতলা জঙ্গি আস্তানাটি ছিল কার্যত একটি নিরিবিলি এলাকা। এখানে জঙ্গিরা আস্তানা গড়ে তুলতে পারে বিষয়টি ওই এলাকার সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে ছিল। সকাল ১০টার দিকে অভিযান শুরু হলে জঙ্গিরা পুলিশ লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি ও গ্রেনেড ছুড়তে থাকে।  

এসময় অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশের এন্ট্রি টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াত ও গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি ছুড়ে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টার অভিযানে কিছুক্ষণ পর পর থেমে থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে জঙ্গিদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গুলির শব্দে আশপাশ বাড়িঘরের মানুষে মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় বসে থাকে। বিকাল ৪টার দিকে অভিযান শেষ হলে ওই এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। তখন বিভিন্ন এলাকার শত শত নারী-পুরুষ জঙ্গি আস্তাটি দেখতে আসে। তখন জঙ্গি আস্তানার বাইরে নিহত সাত জঙ্গির লাশ বের করে আনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এর মধ্যে নব্য জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার ফরিদুল ইসলাম আকাশ নামে এক জঙ্গির পরিচয় নিশ্চিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।