যমুনার তীরে মিলন মেলা


প্রকাশিত: ০১:২০ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০১৬

নওগাঁর ছোট যমুনা নদীতে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষ্যে যমুনার নদীর দুই তীরে প্রায় ৫কিলোমিটার জুড়ে জমে উঠেছে গ্রামীণ মেলা।

মঙ্গলাবার সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে আনুষ্ঠানিক পূজা অর্চনা এবং সিঁদুর খেলার মধ্যে দিয়ে ভক্তরা মা দুর্গাকে নিজ নিজ মণ্ডপ থেকে বিদায় দেন।

দুপুর ১টা থেকে প্রতিমাগুলো নিজ নিজ মণ্ডপ থেকে ছোট যমুনা নদীর তীরে এনে নৌকায় তোলা হয়। সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে নদীবক্ষে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। পরে যমুনা নদীর দুই তীরে গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে নদীর তীরবর্তী এলাকা মিলনমেলায় পরিণত হয়। মেলায় মাটির হাড়ি-পাতিল, ছোটদের জন্য হরক রকমের খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ছানার তৈরি মিষ্টান্ন, ভূট্টার তৈরি মিষ্টান্ন, কাঠের তৈরি বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্লাস্টিকের খেলনা, বাঁশের বাঁশি, কাগজের ফুল এই মেলার প্রধান আকর্ষণ।

মেলায় আসা প্রবীণ আব্দুল হামিদ, আসলাম হোসেন, তমাল কুমার, সন্দীপ কুমার জানান, প্রতি বছরই দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের দিন সকাল থেকে আলু পট্টি, সুপারি-পট্টি, চাউল পট্টি, লিটল ব্রিজের উপর, তাজের মোড়, পার-নওগাঁয় জমে উঠে গ্রামীণ মেলা। গত বছরগুলোর চেয়ে এবছর বড় আকারে এই মেলা বেশ জাঁকজমকভাবে জমে উঠেছে।

দোকানদার নারায়ণ পাল জানান, ১০ বছর থেকে মেলায় রং-বেরংয়ের হাঁড়ি-পাতিল, ছোটদের জন্যে মাটির তৈরি কাঁঠাল, কলা, আম, বিভিন্ন ধরনের পুতুল নিয়ে আসছেন।

মিষ্টি বিক্রেতা মোশারফ হোসেন জানান, মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি থাকায় মিষ্টির চাহিদা বেড়ে যায়। তবে মিষ্টি বিক্রি নিয়ে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয় না।

পূর্জা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিভাস চন্দ্র মজুমদার গোপাল জানান, প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক প্রতিমাবাহী নৌকা নদীতে ভাসছে। নদীর উপরে থাকা লিটল ব্রিজের উত্তরে বিজিবি ক্যাম্প এবং দক্ষিণে পালপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার জুড়ে চলতে থাকে নৌকা বাইচ। নৌকায় ঢাক-ঢোল, কাঁশর, মাইক আর সাউন্ড বক্সের গানের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে নদীর তীরবর্তী এলাকা।  

পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নির্মল কৃষ্ণ সাহা জানান, জেলায় এবছর ৭৩৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় যমুনা নদীর উভয় পাশে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতি সব বয়সের মানুষের অংশগ্রহণে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, বিজয়া দশমী উপলক্ষে শহরের প্রতিটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ও নদীর আশেপাশে র্যাব, বিজিবি, পুলিশসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলা হয়েছে। এতে শান্তিপূূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

আব্বাস আলী/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।