মানব পাচারকারীর ফাঁদে তিন পরিবার


প্রকাশিত: ১০:৪৫ এএম, ১৪ অক্টোবর ২০১৬

নওগাঁর আত্রাইয়ে মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও প্রায় ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগীর পরিবার। উপজেলার রসুলপুর গ্রামে প্রতারণার স্বীকার মামুনের বাবা লোকমান হোসেন বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মৃত শেখ আরবুল্লার ছেলে শেখ আনোয়ার, শেখ আলমগীর হোসেন, শেখ জাহাঙ্গীর এবং ইয়াকুব আলী।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন প্রতিটি মুহূর্ত দুঃচিন্তায় রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। প্রদানকৃত অর্থ ফেরত ও সন্তানদের সুস্থ শরীরে ফিরে পাওয়া এবং প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মৃত শেখ আরবুল্লার ছেলে শেখ আলমগীর হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশে গোপনে মানব পাচার করে আসছিল। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নিরীহ দরিদ্র পরিবারের লোকজনদের কম খরচে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দিতো তারা।

তার এ প্রলোভনে পড়েন একই গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মামুন (৩০), নিরেন্দ্রনাথ হালদারের ছেলে জিতেন (২৫) ও জেলার রাণীনগর উপজেলার ভবানীপুর উত্তর পাড়া মৃত কফির উদ্দিনের ছেলে আইজার মন্ডল (৫০)। ইরাকে পাঠানোর কথা বলে তিনজনের কাছে থেকে চুক্তি মোতাবেক গত ৩ এপ্রিল ২১ লাখ টাকা নেয়। গত ৩০ আগস্ট  সবাইকে আলমগীর তার পাতানো ফাঁদে ফেলে ইরাকে পাচারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে নিয়ে যান।

এক পর্যায়ে তাদেরকে আলমগীর তার পাচার চক্রের সহায়তায় ইরাকে একটি গোপন স্থানে জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে এবং টাকা না দিলে চোখ, কিডনি বিক্রয় করা হবে বলেও ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন জনের পরিবারের কাছে থেকে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন।

কোনো উপায়ন্তর না দেখে ভুক্তভোগীর পরিবার গত ৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে ছেলেদের বাঁচাতে আবারো দেড় লাখ টাকা দেন শেখ আলমগীর হোসেনকে। কিন্তু তারপরও তারা এ চক্রের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি।

কিছুদিন পর আবারো তাদের প্রাণে মারার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা দাবি করে এ চক্র। অবশেষে ভুক্তভোগীর পরিবার দিশেহারা হয়ে গত ৭ অক্টোবর আইনের আশ্রয় নেয়।

এ ব্যাপারে মানব পাচারকারী অভিযুক্ত আসামিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি।

আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুদ্দোজা জানান, শেখ আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আব্বাস আলী/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।