পিরোজপুরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ঋণের অর্থ ভিন্ন খাতে


প্রকাশিত: ০৩:০২ এএম, ২৯ অক্টোবর ২০১৬

পিরোজপুরে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় উল্লেখযোগ্য ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পটি চলমান থাকলেও প্রকল্পের নানা অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় সমিতির সদস্যদের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। জেলায় বিতরণকৃত ঋণের অর্থ ভিন্ন খাতে বিতরণের অভিযোগসহ অধিকাংশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের আওতায় নেয়া হয়নি।

ফলে সরকারের এই অগ্রাধিকার বিশেষ প্রকল্পের উদ্দেশ্য সফল না হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ নিয়ে সমিতির সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গঠিত এই প্রকল্পের এমন অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় সমিতির সদস্যরা এ নিয়ে হতাশ। জেলা সদর ও নাজিরপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১৮০ জন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।  

PIROJPORE

এছাড়া কর্মসূচির পোস্ট ট্রেনিং সাপোর্ট ফান্ড যথাযথ উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের। এই ফান্ডের অর্থ গবাদিপশু পালনসহ পাঁচটি খাতে সৃজনশীল কর্মী গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা। কিন্তু কৃষি ছাড়া চারটি খাতে কোন কর্মী তৈরি হয়নি বলে জানান তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাতকাছিমা গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ৬০ সদস্যের মধ্যে অধিকাংশ সদস্যের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। আবার যে খাতের জন্য ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে তা ভিন্ন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে।

সমিতির সদস্য ও কাঠ ব্যবসায়ী মো. জিয়া উদ্দিন সেখ (৫৩) ২০ হাজার টাকার ঋণ নিলেও তিনি কোন প্রশিক্ষণ পাননি। জুলেখা বেগম (৫২) হাঁস-মুরগির ওপর প্রশিক্ষণ না পেলেও তিনি ঋণ নিয়েছেন ২০ হাজার টাকা। কিন্তু তাতে তিনি সুবিধা করতে না পারায় বর্তমানে কেঁচো সার (কম্পোস্ট) তৈরি করছেন।

PIROJPORE

এদিকে শ্রীরামকাঠি ইউনিয়ন গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্য হালিমা বেগম মাছ চাষের জন্য ঋণ নিয়েছেন ২০ হাজার টাকা। মাছের ব্যবসার ক্ষতি হওয়ায় তিনি এখন ধানের ব্যবসা করছেন। সেলিনা আক্তার ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে হাঁস-মুরগি পালন করেন। মড়ক লাগায় হাঁস-মুরগি রক্ষা করতে পারেননি তিনি। একই গ্রামের রাজিয়া বেগম জানান, তিনি ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নার্সারি করার কথা ছিল। কিন্তু কোন নার্সারি তৈরি করেননি তিনি।

সদর উপজেলার জুজখোলা ইউনিয়নের ছোট জুজকোলা গ্রাম উন্নয়ন সমিতি পরিদর্শনে দেখা যায়, এখানে ৩০ জন সদস্য তিন লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ সদস্যই কোন প্রশিক্ষণ পাননি।

এই সমিতির সভাপতি মো. মতিউর রহমান ও ব্যবস্থাপক রিয়াজুল ইসলাম। সভাপতি মো. মতিউর রহমান জানান, তিনি কাপড়ের ব্যবসার জন্য ১০ হাজার টাকার ঋণ নিলেও কোন প্রশিক্ষণ পাননি।

PIROJPORE

ব্যবস্থাপক রিয়াজুল ইসলাম জানান, তিনি প্রথমে ১০ ও পরে আরো ২০ হাজার টাকা দিয়ে হাঁস-মুরগি চাষে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় বর্তমানে তিনি কোয়েল পাখির চাষ করছেন।

এই প্রকল্পের এসব সমস্যার কথা স্বীকার করে নাজিরপুর উপজেলার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়ক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের তদারকিতে কিছুটা ভুল ছিল। পরবর্তীতে এসব ভুল যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখা হবে।

হাসান মামুন/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।