মেয়েকে হত্যার দায়ে বাবার ফাঁসি
পিরোজপুরে মেয়েকে হত্যার দায়ে বাবা মহারাজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এসএম জিল্লুর রহমানের আদালত এ রায় দেন।
এ সময় বিচারক আলীগ হোসেন হাওলাদারের ছেলে মহারাজ হাওলাদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অপরদিকে পৃথক একটি মামলায় একই আদালত মৃত সিকান্দার আলীর ছেলে সেলিম ব্যাপারিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের কারভোগের আদেশ দেন আদালত।
পিরোজপুর আদালতের পিপি খান মো. আলাউদ্দিন জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলার ৬ নম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের ভেচকি গ্রামের আলী হোসেন হাওলাদারের ছেলে মহারাজ ৮ বছরের মেয়ে জেসমিন আক্তার রিঙ্কুর নামে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের মঠবাড়িয়া শাখায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বিমা করেন। বিমার প্রথম কিস্ত ওই বছরের ২০ এপ্রিল জমা দেন।
কিস্তি পরিশোধে আগে মেয়ে মারা গেলে সব টাকাই পেয়ে যাবেন এমন কুবুদ্ধির কারণে ২০০৫ সালের মে মাসের ৪ তারিখ সকালে মেয়েকে নিয়ে পাষণ্ড মহারাজ বাজারে গিয়ে মেয়েকে বিভিন্ন খাবার কিনে দেন।
একপর্যায় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সাকোর ওপর থেকে খালে ফেলে দেন। পরে মেয়ে পানিতে ডুবে মরেছে এমন প্রচারণা চালান। মহারাজের কথায় সন্দেহ হলে থানা পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী।
মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান নিহত জেসমিনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনায় মেয়েকে হত্যার অভিযোগে মহারাজকে আসামি করে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ২০০৫ সালের ৫ মে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার শুনানি শেষে রোববার দুপুরে বিচারক মহারাজের মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। আসামি মহারাজ পলাতক রয়েছে।
আপরদিকে ২০০৯ সালের ৮ জুলাই ভোরে দাম্পত্য কলহের জের ধরে সেলিম বেপারি স্ত্রী আকলিমাকে মারপিট করে হত্যা করার দায়ে তার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
হাসান মামুন/এফএ/আরআইপি