মাদরাসা মাঠে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ
পিরোজপুরের ভাণ্ডরিয়া উপজেলার নদমূলা শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের একটি দাখিল মাদরাসা মাঠে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করায় এলাকাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল কুদ্দুসের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২নং নদমূলা শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মাদরাসা বাজারে অবস্থিত নদমূলা দাখিল মাদরাসার মাঠ ভরাট করে অবৈধভাবে ১২টি দোকান-পাট গড়ে তোলেন মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. শাজাহান তালুকদার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, তারা মাদরাসা কমিটির সভাপতি মো. শাজাহান তালুকদারের ভয়ে ও চাপের মুখে ‘টু’ শব্দটি পর্যন্ত করতে পারছেন না।
মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সদস্য ও ইউপি মেম্বার অভিযোগ করে বলেন, মাদরাসা মাঠে অবৈধভাবে নির্মাণ করা দোকানগুলো স্থানীয়দের মাঝে বরাদ্দ না দিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সভাপতি নিজের নামে ও তার আত্মীয়-স্বজনের নামে একাধিক ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদরাসা বা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য উম্মুক্ত রাখতে শিক্ষামন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্বেও সভাপতি সে নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন, যা মোটেই সমীচীন নয়। এলাকার এই একটি মাত্র মাঠেই বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান, ভোট কেন্দ্র, বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও জানাজা নামাজসহ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছিল।
অভিযোগকারী মো. এমরান হোসেন তালুকদার, গিয়াস উদ্দিন তালুকদার ও মিলন খন্দকার জানান, মাদরাসা মাঠ সংলগ্ন তাদের ওয়ারিশ সম্পত্তি রয়েছে। যেখানে সভাপতি তাদের সঙ্গে কোনো আলাপ আলোচনা ছাড়াই মার্কেট নির্মাণ করেছে।
মাদরাসার তত্ত্বাবধায়ক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা মো. অলিউর রহমান জানান, মাঠের উত্তর ও পূর্ব প্রান্তে গড়ে ওঠা দোকানগুলোর মধ্যে আটটি কাঁচা ও চারটি টিনশেড ঘর রয়েছে।
মাদরাসা কমিটির সভাপতি মো. শাজাহান তালুকদার জানান, নির্মাণাধীন মার্কেটের একটি ঘর তিনি নিজের নামে নিয়েছেন। কোনো আত্মীয়-স্বজনের নামে দেয়া ঘর দেয়া হয়নি। মার্কেট নির্মাণের ফলে প্রতিষ্ঠানের মাঠের কোনো ক্ষতি হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জহুরুল আলম জানান, তদন্ত কাজ শেষে এলাকার বেশ কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের আংশিক সত্যতা মিলেছে।
হাসান মামুন/আরএআর/এমএস