প্রতিবন্ধী মেয়ের খোঁজ রাখেন না মুক্তিযোদ্ধা বাবা
যেসব অসুবিধা মানুষকে মানসিকভাবে দুর্বল করে রাখে সেসব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এগিয়ে চলছেন এক তরুণী।
জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও বাবার কোনো রকমের সহযোগিতা ছাড়াই তিনি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের স্তর পেরিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিবন্ধী ভাতার সামান্য অর্থ দিয়ে কোনো মতে খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করছেন তিনি। অথচ বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও মেয়ের কোনো দেখভাল করছেন না।
ছোটবেলায় মা মারা যাওয়ার পর বাবার অবহেলার শিকার হন বিজলী রানী। এরপর মামারা তাকে নিয়ে যান তাদের বাড়িতে। বর্তমানে সেখানে থেকেই অনেক কষ্টে লেখাপড়া করছেন তিনি।
ঘটনাটি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাটুয়া মহল গ্রামের। আর প্রতিবন্ধকতা জয় করা এই তরুণী হলেন বিজলী রানী সরকার। জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী তিনি। হাত-পা বাঁকা, সরু ও ক্ষিণক্ষিণে। মাথাটিও বৃহদাকৃতির।
রাজারহাট উপজেলার মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। থাকেন মামা কৃষ্ণ চন্দ্রের বাড়ি রাজারহাট উপজেলা সদরের নাটুয়া মহল গ্রামে।
বাবা বিষ্ণুপদ বর্মণ ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসের অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। মা মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার নিয়ে ব্যস্ত তিনি। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে একই উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের রতিরাম কমলওঝা গ্রামে বসবাস করেন তিনি।
সরকারিভাবে মাসিক ৫০০ টাকার প্রতিবন্ধী ভাতা পান বিজলী রানী। সেই টাকা লেখাপড়ায় খরচ করছেন তিনি। মামাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় মাঝে মধ্যে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে।
বিজলী রানী জানান, অনেক কষ্ট করে মামার অভাবের সংসারে লেখাপড়া করছি। ২০১০ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় লালমনিরহাট থেকে এসএসসি এবং ২০১৪ সালে মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছি। একই কলেজে বিএ দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি।
তবে শারীরিক অসুস্থতা এবং আর্থিক অভাব অনটনের কারণে লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বিজলী রানীর।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ফজলুল হক জানান, মাসিক ৫০০ টাকার বেশি প্রতিবন্ধীদের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তাই বিজলী রানীর জন্য এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য আমার নেই।
কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে ফোন করুন বিজলী রাণীর 01773469757 (বিকাশ করা আছে) নম্বরে।
এমএএস/এবি