লালমনিরহাটে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীত


প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৬

উত্তরের সীমান্তবর্তী আর হিমালয় পর্বত ঘেঁষা লালমনিরহাট জেলা। দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় এ জেলায় শীতের প্রকোপ একটু বেশি। শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। দিন যতই যাচ্ছে শীতও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

কার্তিকের শুরু থেকেই শুরু হয়েছে হালকা কুয়াশা। ক্রমেই তা ভারি হচ্ছে। কদিন থেকে সন্ধ্যার পরই শুরু হয়েছে হালকা কুয়াশা। দিনের শেষে বিকেল থেকেই শীতল হাওয়া আর সন্ধ্যার পর পরই কুয়াশা পড়া শুরু হয়েছে।

Lalmonirhat

এদিকে শীতের প্রস্তুতি হিসেবে অনেকেই পুরনো শীতবস্ত্র ঠিক ঠাক করে নিচ্ছেন। বাজারের দোকানগুলোতে লেপ-তোশক তৈরি হিড়িক পড়েছে। খেটে খাওয়া মানুষদের শীত নিবারণের জন্য পুরনো ছেঁড়া শাড়ি, লুঙ্গি দিয়ে নতুন কাঁথা তৈরি করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে তিস্তা নদীর ভাঙনের স্বীকার কয়েক হাজার মানুষ শীতে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। অনেক পরিবার সরকারি শীতবস্ত্রের জন্য অপেক্ষা করছে।

উপজেলার নিজ শেখ সুন্দর গ্রামের ফজর আলী (৫০) বলেন, ‘এবার তিস্তা নদীর ভাঙনে সব কিছু ভাসী নিয়ে গেছে কিছুই আটকাবার পাই নাই। শীত শুরু হয়েছে গরম কাপড় না থাকায় অনেক কষ্টে আছি।’

অন্যদিকে, সারাদিন রোদ সন্ধ্যায় কনকনে শীত শুরু হয়। শীতের শুরুতে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্টজনিত রোগে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। দোয়ানী তিস্তা চরে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে হঠাৎ করে শীতের বেড়ে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টসহ ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া রোগীরা ক্লিনিকগুলোতে ভিড় জমায়।

Lalmonirhat

দোয়ানী কমিউনিটি ক্লিনিকের হেল্প প্রোভাইডার আব্দুল মান্নান জানান, শীতের শুরুতে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাদের কে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী জানান, সরকারিভাবে শীত বস্ত্র আসলে তিস্তা তীরে আশ্রয় নেয়া লোকজনদের বেশি দেয়ার চেষ্টা করবো। এখনো শীতার্থ মানুষের জন্য সরকারি কোনো ত্রাণ বা সহায়তা এসে পৌঁছায়নি।

রবিউল হাসান/এআরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।