পঞ্চগড়ে চা শিল্পকে রক্ষার দাবি
পঞ্চগড়ের সম্ভাবনাময় চা শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় সদর ইউপি চত্বরে জেলা স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চা শিল্পকে বাঁচাতে চা আমদানি নিরুৎসাহিত করা, সরকারি উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে কারখানা স্থাপন, নিলাম বাজারের ব্যবস্থা করা, চা চাষে ভর্তুকি প্রদানসহ আট দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল হক খোকন।এসময় বাংলাদেশ স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ক্ষুদ্র চা চাষি আব্দুল জব্বার, ক্ষুদ্র চা চাষি জাহেদুল ইসলাম, কাজী আনিস, মতিয়ার রহমান, নর্থ বেঙ্গল চা কারখানার ম্যানেজার মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ ক্ষুদ্র চা চাষি ও বিভিন্ন চা কারখানার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুদ্র চা চাষিরা বলেন, পঞ্চগড় জেলার সমতল ভূমির বিস্তীর্ণ এলাকায় বর্তমানে তিন হাজার হেক্টর জমিতে চা চাষ সম্প্রসারণ হয়েছে। জেলায় দুই হাজার ৫০০ জন ক্ষুদ্র চা চাষী, ১২ টি ক্ষুদ্রায়তন বাগান এবং আটটি স্টেট পর্যায়ে চা বাগান রয়েছে। চা চাষের শুরুতে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও বর্তমানে উৎপাদিত চা বিক্রি করতে চরম বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে তারা ২৫ টাকা কেজি দরে কাঁচা পাতা বিক্রি করলেও বর্তমানে ২০ টাকাতেও চা পাতা বিক্রি হচ্ছে না। কারখানা মালিকরা তাদের সুবিধামতো ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চা পাতা কর্তন করে মূল্য পরিশোধ করছেন।
তবে কারখানা মালিকের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, এবার তাদের কারখানায় ধারণ ক্ষমতার প্রায় তিনগুণ চা পাতা উৎপাদন হয়েছে। কারখানায় পর্যাপ্ত তৈরী চা মজুদ রয়েছে। এছাড়া চিটাগাং অকশন মার্কেটেও চায়ের তেমন চাহিদা নেই। এজন্য বর্তমানে তারা চা কিনতে পারছেন না।
চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ের তিন উপজেলায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা পাতা উৎপাদন হবে। এই চা পাতা প্রসেসিং করতে রয়েছে মাত্র ৬টি কারখানা। সম্ভাবনাময় এই চা শিল্পকে বাঁচাতে এখানে আরও কারখানা স্থাপন জরুরি বলে মনে করেন চা ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরা।
সফিকুল আলম/আরএআর/আরআইপি