কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন আবু তাহের দম্পতি
‘ভ্যান গাড়িতেই সংসার তাদের’ শিরোনামে গত ৩০ নভেম্বর দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজপোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেই আবু তাহের দম্পতির পাশে দাঁড়ালেন সুনামগঞ্জের তরুণ রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সামায়ুন কবির।
তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ও বিশিষ্ট বালি-পাথর ব্যবসায়ী সামায়ুন কবির বর্তমানে জেলা শহরের ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা।
রোববার বেলা ১১টায় জাগো নিউজের জেলা প্রতিনিধি রাজু আহমেদ রমজানের উপস্থিতিতে এসপি (পুলিশ সুপার) বাংলো এলাকায় আবু তাহের দম্পতির হাতে নগদ দুই হাজার টাকা সহায়তা দেন তরুণ রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সামায়ুন কবির।
সামায়ুন বলেন, রাজনীতি করি এই অসহায় মানুষদের জন্য। জাগো নিউজের সংবাদটি পড়ে শহরজুড়ে গত কয়েক দিন ধরে তাদের খুঁজেছি। অবশেষে সাংবাদিক রাজুর মাধ্যমে সহায়তা করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। যদিও সহায়তার টাকা যৎসামান্য। দেশের হৃদয়বান ব্যক্তিবর্গকে এই অসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এই তরুণ রাজনীতিবিদ।
সহায়তা পাওয়ার পর অনুভূতি জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাহের দম্পতি জাগো নিউজকে বলেন, গত তিন বছর ধরে ডাস্টবিনের বোতলসহ প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্রী কুড়িয়ে বিক্রি করা টাকায় পেটের ক্ষুধা নিবারণ করে আসছি। আজ পর্যন্ত কেউ সহায়তার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়ায়নি। আমাদের সীমাহীন কষ্টের কাহিনি চোখে পড়েনি কোনো সাংবাদিকের।
জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর এই ব্যবসায়ী ভাই আমাদের সহায়তা দিয়েছেন। এ টাকায় অবুঝ দুই সন্তানের জন্য শীতের কাপড় ও আমাদের ওষুধ-পথ্য কিনবো।
উল্লেখ্য, ডাস্টবিনের বোতলসহ প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্রী কুড়িয়ে বিক্রি করা টাকায় চলে আবু তাহের (৬০) ও সালেহা বেগম (৪২) দম্পতির জীবন-সংসার। ভ্যান গাড়িতে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে রোজগারের আশায় দিনভর ছুটে চলেন এক ডাস্টবিন থেকে অন্য ডাস্টবিনে।
বৃদ্ধ আবু তাহেরের শরীরে বাসা বেঁধেছে বিভিন্ন রোগ। ক্লান্ত দেহঘড়ি যেদিন চলে না সেদিন সন্তানদের নিয়ে অনাহারে দিন কাটতে হয় এই দম্পতির।
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মতুরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বর্তমানে জেলা শহরের বৈঠাখালী খেয়াঘাট এলাকায় একটি অটোরাইস মিলের বারান্দায় দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর দিন কাটছে তার।
বুধবার বেলা ১১টায় জেলা শহরের এসপি (পুলিশ সুপার) বাংলো এলাকায় ডাস্টবিন থেকে প্লাস্টিকের বোতল সামগ্রী কুড়ানোর সময় ওই ব্যক্তির কথা হয় জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। জানান অসহায়ত্বের কাহিনি।
এফএ/এনএইচ/এমএস