ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন

ভারতের ‘র’ এবং আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা চায় মার্কিন কমিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩১ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬
ভারতের ‘র’ এবং আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ/ গ্রাফিকস: জাগোনিউজ

ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন সংস্থা। একই সঙ্গে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)–এর বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত তাদের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং তাদের উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে নতুন আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করেছে ভারত সরকার।

সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর হামলার ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষের সহনশীল মনোভাবের অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন>>
ভারতে হিন্দুত্ববাদী মবের প্রতিবাদ করায় উল্টো যুবকের বিরুদ্ধেই মামলা
ভারতে ৩ প্রবীণ মুসলিমকে মারধরের ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

মুসলিমদের ছবিতে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর ‘গুলি ’, বিতর্কের ঝড়

ইউএসসিআইআরএফ বলেছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো সারা বছর বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হয়রানি, উসকানি এবং সহিংসতায় জড়িত ছিল।

২০২৫ সালের মার্চে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবি তোলার পর মহারাষ্ট্রে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে বহু মানুষ আহত হন।

এ ছাড়া জুন মাসে উড়িষ্যায় ভিএইচপি আয়োজিত বিক্ষোভের সময় কোরআন অবমাননার অভিযোগ ওঠে এবং সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন।

অন্যদিকে, গত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরে হিন্দু পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাঁচ দিনের সংঘাত শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ও নাগরিক বহিষ্কারের অভিযোগ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মে মাসে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে মিয়ানমারের জলসীমার কাছে সমুদ্রে নিয়ে গিয়ে লাইফ জ্যাকেট দিয়ে সাঁতরে তীরে যেতে বাধ্য করা হয়।

আরও পড়ুন>>
ভারতে বড়দিন উদযাপনে বাধা, সাজসজ্জা জ্বালিয়ে দিলো ভিএইচপি-বজরং দল
৪০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে গোপনে সমুদ্রে ফেলে দেয় ভারত
৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে বাংলাদেশে পুশ ইন ভারতের, সন্তানের কী হবে?

এ ছাড়া জুলাই মাসে আসাম থেকে শত শত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে, যাদের অনেকেই ভারতীয় নাগরিক।

সম্পদ বাজেয়াপ্ত-ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

ইউএসসিআইআরএফ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করেছে, আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ (সিপিসি) হিসেবে ঘোষণা করতে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, আরএসএসের মতো সংগঠনের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাদের সম্পদ জব্দ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সহায়তা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে সংস্থাটি কেবল নীতিগত সুপারিশ দিতে পারে। এগুলো মানা না মানা সম্পূর্ণভাবে হোয়াইট হাউজ এবং মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, ইন্ডিয়া ডটকম
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।