কলেজ শিক্ষককে হত্যাচেষ্টা : প্রধান আসামি গ্রেফতার
ঝালকাঠি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কম্পিউটার শিক্ষক (গেস্ট টিচার) আল রিয়াদ হোসেনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত রিয়াদের মা বুলু বেগম বাদী হয়ে রোববার রাতে সদর থানায় ৫ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।
রাতেই মামলার ১ নং আসামি মনির হোসেনকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করে সোমবার দুপুর ১২ টায় আদালতে সোপর্দ করে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছে টেকনিক্যাল কলেজ অধ্যক্ষ ও ভূক্তভোগীরা।
মামলা সূত্রে জানাগেছে, ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মনির (৩৪), মেহেদী (২০), শিহাব (২০), আবির (২১) ও নাইম(১৯) পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গলায় বৈদ্যুতিক তার পেচিয়ে শিক্ষক আল রিয়াদ হোসেনকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে আহত করে। এ সময় রিয়াদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।
আহতাবস্থায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার ২নং আসামি মেহেদীর বাবা ও ঝালকাঠি আদালতের কর্মচারী মো. ইউসুফ আলী খান জানান, ঘটনার দিন আমার ছেলে মেহেদী আমার সঙ্গেই ছিল। ওই সময়ে শহরের আমতলা রোডে আমরা মোবাইল কিনতে গিয়েছিলাম। আমার ছেলে এ ঘটনার কিছুই জানে না।
থানায় মামলার খবর নিতে গিয়ে গ্রেফতার হয় আমার শ্যালক মনির। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করলে প্রকৃত দোষিরা বেরিয়ে আসবে।
শিহাবের বাবা মো. তৈয়বুর রহমান খান বলেন, ১ ডিসেম্বর বিকেলে আমার ছেলে বরিশালে ছিল। পরের দিন ঝালকাঠিতে আসলে এ ঘটনা শুনি।
ঝালকাঠি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আ. জব্বার বলেন, রিয়াদ আমাদের এখানকার কম্পিউটার বিভাগের গেস্ট টিচার। তার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। প্রকৃত দোষিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিও জানান তিনি।
ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. ফারুক হোসেন জানান, মামলার তদন্তভার এসআই সরোয়ারকে দেয়া হয়েছে। প্রধান আসামি মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার দুপর ১২ টায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আতিকুর রহমান/এফএ/জেআই